হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা থাকা জরুরি

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুনের পর ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুনের পর ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অনভিপ্রেত। আগুনে হাসপাতালের নিচতলার প্রায় ১৫টি কক্ষ পুড়ে গেছে। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, এ বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়েও ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ফায়ার সার্ভিস।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনতলার শিশু ওয়ার্ড থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য হল, নিচতলার স্টোররুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাসপাতালের নিচতলার স্টোররুমে নানারকম সরঞ্জাম, জরুরি ওষুধ, অক্সিজেনের সিলিন্ডার ও স্পিরিটসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল।

স্বস্তির বিষয়, আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ১২শ’ রোগীকে নিরাপদে বাইরে বের করতে সক্ষম হয়েছেন।

দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতালে অবস্থানরত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করলেও হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে কেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অবশ্য অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক হাসপাতালটির পরিচালককে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসও পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উদ্ঘাটন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কী ধরনের সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, এ সম্পর্কে কমিটিগুলোর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।

দেশে প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রায়ই বস্তি, গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকলেও এক্ষেত্রে সরকার অনেকটা উদাসীন দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব। উন্নতমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দ্বারা ওয়্যারিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হলে শর্টসার্কিটজনিত দুর্ঘটনার হার নিঃসন্দেহে হ্রাস পাবে।

অগ্নিকাণ্ডে জীবন ও সম্পদহানির ঘটনা সাংবাৎসরিক। সম্পদ ও জীবনহানির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হলে সাধারণ মানুষকে যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি সরকারেরও অনেককিছু করণীয় রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লোকবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। সরঞ্জাম সংগ্রহ ও জনবল বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ বা সাহায্য বিতরণ করলেই সব দোষ স্খলন হয় না। সমস্যা প্রতিরোধে অধিক মনোযোগ দেয়া দরকার।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের অসুখে-বিসুখে দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই ভরসা। এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাই প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর আগাগোনা লক্ষ করা যায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিত্রও এ থেকে ভিন্ন নয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, রোগাক্রান্তরা রোগমুক্তির আশায় এ হাসপাতালে ভিড় করে থাকে। মানুষের এ প্রত্যাশার বিপরীতে হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ আগুন থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায় ও পদ্ধতির পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×