ঋণখেলাপিদের শাস্তি দাবি
jugantor
ঋণখেলাপিদের শাস্তি দাবি
কঠোর ব্যবস্থাই কাম্য

   

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণখেলাপি

ঋণখেলাপিদের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। রোববার রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘অবৈধ উপায়ে যারা ব্যাংকের টাকা লুটপাট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তবে অতীতের রেকর্ড দেখে অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করে তাদের ক্ষেত্রে উত্তরণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতির এ বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়।

ফলে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। পরিণামে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। বস্তুত খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে। কাজেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে ব্যাংক লুটেরা ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের বিকল্প নেই।

ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করা অর্থ আত্মসাতের শামিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও ঋণ জালিয়াতির ঘটনাগুলো ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বস্তুত ব্যাংকারদের যোগসাজশেই বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছে জালিয়াত চক্র।

ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তারাই জড়িত থাকে। তারা নিজেরা বা কারও চাপে পড়ে দুর্নীতি না করলে কোনোভাবেই ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটতে পারে না। এমনকি ঋণ নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করাও সম্ভব নয়। কেননা প্রত্যেক ঋণগ্রহীতাকেই ব্যাংক কর্মকর্তারা চেনেন।

তারা কী ব্যবসা করছেন সেগুলোর খবরও রাখেন। কাজেই ঋণখেলাপিদের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে ব্যাংকগুলোতে নতুন করে ঋণ জালিয়াতি বা খেলাপির ঘটনা ঘটবে না। ঋণ জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে পারলে ব্যাংকিং খাতে ক্ষতির প্রবণতা অনেক কমে আসবে। একইসঙ্গে কমবে খেলাপি ঋণের হারও।

পরিতাপের বিষয় হল, দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে, তখন আরও তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায়। এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ ইতিপূর্বে যে নয়টি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, সেগুলোও জাল-জালিয়াতি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ফলে এসব ব্যাংকের অবস্থাও হয়ে পড়েছে নাজুক।

অভিযোগ আছে, অতীতের মতো নতুন তিনটি ব্যাংক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনা। এ ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদদের মতামত হয়েছে উপেক্ষিত। তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার বিরোধিতা করে আসছিলেন।

আমাদের কথা হল, খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে হবে যে কোনো উপায়ে। আশার কথা, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী। আদালতও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন। এক কোটি টাকার উপরে ঋণখেলাপিদের নাম-ঠিকানা প্রস্তুত করে তা আদালতে দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এবার ঋণখেলাপিদের ‘দৃষ্টান্তমূলক’ শাস্তির দাবি করল এফবিসিসিআই। এ সবকিছুর উদ্দেশ্য একটিই- খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা। এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির দুষ্ট ক্ষত খেলাপি ঋণ সংস্কৃতির অবসান ঘটবে, এটাই কাম্য।

ঋণখেলাপিদের শাস্তি দাবি

কঠোর ব্যবস্থাই কাম্য
  
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ঋণখেলাপি
প্রতীকী ছবি।ছবি- যুগান্তর

ঋণখেলাপিদের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। রোববার রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘অবৈধ উপায়ে যারা ব্যাংকের টাকা লুটপাট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তবে অতীতের রেকর্ড দেখে অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করে তাদের ক্ষেত্রে উত্তরণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতির এ বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়।

ফলে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। পরিণামে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। বস্তুত খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে। কাজেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে ব্যাংক লুটেরা ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের বিকল্প নেই।

ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করা অর্থ আত্মসাতের শামিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও ঋণ জালিয়াতির ঘটনাগুলো ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বস্তুত ব্যাংকারদের যোগসাজশেই বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছে জালিয়াত চক্র।

ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তারাই জড়িত থাকে। তারা নিজেরা বা কারও চাপে পড়ে দুর্নীতি না করলে কোনোভাবেই ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটতে পারে না। এমনকি ঋণ নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করাও সম্ভব নয়। কেননা প্রত্যেক ঋণগ্রহীতাকেই ব্যাংক কর্মকর্তারা চেনেন।

তারা কী ব্যবসা করছেন সেগুলোর খবরও রাখেন। কাজেই ঋণখেলাপিদের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে ব্যাংকগুলোতে নতুন করে ঋণ জালিয়াতি বা খেলাপির ঘটনা ঘটবে না। ঋণ জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে পারলে ব্যাংকিং খাতে ক্ষতির প্রবণতা অনেক কমে আসবে। একইসঙ্গে কমবে খেলাপি ঋণের হারও।

পরিতাপের বিষয় হল, দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে, তখন আরও তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায়। এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ ইতিপূর্বে যে নয়টি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, সেগুলোও জাল-জালিয়াতি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। বেড়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ফলে এসব ব্যাংকের অবস্থাও হয়ে পড়েছে নাজুক।

অভিযোগ আছে, অতীতের মতো নতুন তিনটি ব্যাংক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনা। এ ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদদের মতামত হয়েছে উপেক্ষিত। তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার বিরোধিতা করে আসছিলেন।

আমাদের কথা হল, খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে হবে যে কোনো উপায়ে। আশার কথা, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী। আদালতও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন। এক কোটি টাকার উপরে ঋণখেলাপিদের নাম-ঠিকানা প্রস্তুত করে তা আদালতে দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এবার ঋণখেলাপিদের ‘দৃষ্টান্তমূলক’ শাস্তির দাবি করল এফবিসিসিআই। এ সবকিছুর উদ্দেশ্য একটিই- খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা। এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির দুষ্ট ক্ষত খেলাপি ঋণ সংস্কৃতির অবসান ঘটবে, এটাই কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন