সারিয়ে ফেলুন ত্রুটিগুলোও

  মো. রকিবুল হোসেন ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেমিক্যাল

প্রধানমন্ত্রী পুরান ঢাকা থেকে দ্রুততর সময়ে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র বরাবরই বলে আসছেন, পুরান ঢাকায় কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যালের গোডাউন থাকতে দেয়া হবে না।

সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর গোডাউন উচ্ছেদে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পুলিশের মহাপরিদর্শক কেমিক্যাল গোডাউনগুলো সরাতে অতিসত্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- কোনো এলাকায় যদি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ব্লাস্ট হয়ে আগুন ধরে, তাহলে কি ওই এলাকার সব ট্রান্সফর্মার সরিয়ে ফেলা হবে?

কিংবা কোথাও যদি গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে আগুন লাগে, তাহলে কি ওই এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে? অথবা বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লাগলে প্রতিকার হিসেবে সব ওয়্যারিং খুলে ফেলে কি আমাদের অন্ধকারে থাকতে হবে? অবশ্যই না।

বরং এসব ক্ষেত্রে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলি, উন্নত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কথা বলি, এক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি দূর করার কথা বলি। তাহলে কেন আমরা দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যাল গোডাউন শুধু উচ্ছেদের কথা বলছি? আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সেগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, গোডাউন মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক কমপ্লায়েন্সের কথাও বলছি না কেন?

শুধু জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোই নয়, সাধারণ মানুষও বলছেন পুরান ঢাকা থেকে অবিলম্বে দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যাল সরিয়ে ফেলার কথা। কিন্তু কেউই বলছেন না কোথায় সরাবেন। এগুলো সরিয়ে কি ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা অথবা উত্তরায় নেয়া হবে?

না, ওখানে রাখা যাবে না। তবে ঢাকার ভেতরেই কোথাও নিতে হবে, যেখানে ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে এবং আগুন ধরার আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না। ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন না করে কেবল স্থানান্তরের মাধ্যমে দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি লাভের মতো নিরাপদ স্থান কি ঢাকার ভেতরে আদৌ কোথাও আছে?

মনে রাখা দরকার, এই গোডাউনগুলো একদিনে গড়ে ওঠেনি, নানাবিধ ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধার কারণে এগুলো গড়ে উঠেছে, যার ওপর দেশের অনেক ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্ভর করে। এ ব্যবসা বন্ধ হলে কেমিক্যালের ওপর নির্ভরশীল পুরো সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সুতরাং, দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যাল গোডাউনগুলো শুধু সরিয়ে ফেলাই সমাধান নয়, বরং অনুসন্ধান ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কেমিক্যালকেন্দ্রিক দুর্ঘটনার মূল কারণ বের করে সেগুলো দ্রুত সারিয়ে তুলতে হবে। মূল কারণ দূর করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে-

১. কেমিক্যাল গোডাউন স্থাপনের জন্য কেমিক্যাল ম্যানেজমেন্টের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরিখে নির্দেশিকা বই তৈরি করতে হবে, যা সিটি কর্পোরেশনের ‘কেমিক্যাল গোডাউন স্থাপনার নির্দেশনাসমূহ’ বলে বিবেচিত হবে।

২. কেমিক্যাল কোম্পানির মালিকদের ‘কেমিক্যাল গোডাউন স্থাপনার নির্দেশনাসমূহ’ মেনে চলার জন্য সচেতনতা তৈরি এবং আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ ও সৎ লোকবলের দ্বারা ‘কেমিক্যাল গোডাউন স্থাপনার নির্দেশনাসমূহে’র ওপর কমপ্লায়েন্স অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।

৪. ‘কেমিক্যাল গোডাউন স্থাপনার নির্দেশনাসমূহ’ মেনে চলার ভিত্তিতে কেমিক্যাল গোডাউনগুলোকে ’এ’ ’বি’ ও ‘সি’- এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করতে হবে।

৫. পুরান ঢাকাসহ ঢাকার সব বৈধ কেমিক্যাল কোম্পানির নাম, ঠিকানা ও শ্রেণী (’এ’ ’বি’ ‘সি’) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং কোম্পানির মালিকদের বৈধ কেমিক্যাল কোম্পানি থেকে কেমিক্যাল ক্রয়ে উৎসাহিত করতে হবে।

৬. যারা কমপ্লায়েন্স মেনে চলতে ব্যর্থ হবেন, তাদেরকে ব্যবসা অব্যাহত রাখার শর্ত হিসেবে তা পরিপূর্ণ করার জন্য সময় বেঁধে দিতে হবে। ৭. কমপ্লায়েন্সের ওপর সচেতনতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো. রকিবুল হোসেন : প্রোপ্রাইটর ও ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট, সেন্টার ফর কোয়ালিটি সলিউশন

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : চকবাজার আগুনে মৃত্যুর মিছিল

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×