নবীনদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে

  সোহেল দ্বিরেফ ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

এখন প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও পুরোদমে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস চলছে।

নতুন শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় ক্যাম্পাসগুলো যেন মুখরিত। বুকে হাজারও স্বপ্ন বেঁধে তারা সহপাঠীদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে চলছে, নতুন করে সবার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, নিজেদের স্বপ্নগুলো ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। মা-বাবার সব চাওয়া-পাওয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা আজ সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে অবস্থান করছে।

এর মধ্যে অনেকে আতঙ্কে ক্লাস করতে আসে। মনে একটাই ভয়- কখন র‌্যাগিংয়ের কবলে পড়তে হয়! যতক্ষণ ক্যাম্পাসে থাকে ততক্ষণ বুকটা যেন ধড়ফড় করতে থাকে- কখন কোন দিক থেকে কোন বড়ভাই বা আপু ডাক দেয়!

আমরা যদি নতুনদের স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নিই, তাহলে কোনো আপত্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি তাদের হতে হবে না। আমরাই পারি তাদের মনে জন্ম নেয়া ভীতি দূর করতে। বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা প্রশংসার দাবি রাখে; যেমন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ আমরা যাদেরকে নিয়ে মজা করব, দু’দিন পর তারাই তো আমাদের সব থেকে কাছের মানুষ হবে। তাহলে শুধু শুধু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি করে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়াব? ক্যাম্পাসে তারা যদি চার-পাঁচ মাস অবস্থান করে, তাহলে কিন্তু মোটামুটি আমার, আপনার অর্থাৎ সবার সম্পর্কে তারা একটি ধারণা পেয়ে যায়। যে বড়ভাই বা আপু অনেক বড় মানুষ হিসেবে নিজেদের জাহির করেছিল, তারা একসময় ঠিকই ‘মুরগি’ বনে যায়, অর্থাৎ তাদের প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে যায়। আসলে তারা ছিল ফাঁকা কলসি। ভেতরে কিছু না থাকলে তারা একটু বেশি বাজবে এটাই স্বাভাবিক। আপনি যদি সত্যিকারের মেধাবী হয়ে থাকেন, তাহলে নতুনদের কাছে গিয়ে ধরনা দেয়া বা আগ বাড়িয়ে পরিচিত হওয়ার কোনো দরকার আপনার নেই। তারা অবশ্যই আপনাকে খুঁজে নেবে। কারণ আপনার দ্বারা তাদের উপকার হবে। আর যদি এর বিপরীতটা করেন তাহলে ঘটনাও উল্টো ঘটবে। সামনে সালাম দেবে, কিন্তু পেছনে ঠিকই একটি শব্দবোমা ছুড়বে। তাই নিজেদের সম্মান হারানো নয়, বরঞ্চ কিভাবে নিজেদেরকে আরও পরিণতভাবে তাদের সামনে উপস্থাপন করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে।

আমি যখন ২০১৩-১৪ সেশনে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন কিছু বড়ভাইকে কাছে পেয়েছিলাম। আবার জোর করে সম্মান আদায় করা কিছু বড়ভাইকেও পেয়েছিলাম! তারা পদে পদে ভুল ধরত; যেমন, গায়ে শার্ট/টি শার্ট কেন, চুল ছোট/বড় কেন, শার্টের বোতাম খোলা/লাগানো কেন, বাইরে এত ঘোরাঘুরি কেন, অমুক ভাইকে সালাম দেয়া হয়নি কেন ইত্যাদি। তখন দিনগুলো খুব আতঙ্কে কাটত। একটা সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বাড়ি চলে যাব, এভাবে পড়ালেখা করা সম্ভব নয়। যেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই সেখানে থাকব কীভাবে! পরবর্তীকালে অবশ্য তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন।

তাই আসুন, আমরা নবীনদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হই। আমাদের প্রতি এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাদের মনোভাব যেন শুরু থেকেই ইতিবাচক হয়। তাদের প্রতি ভালোবাসা বা স্নেহের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের চলার পথকে আরও সহজ করে দিই।

সোহেল দ্বিরেফ : শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×