পাহাড়ে ফের রক্তপাত

সহিংসতার কারণগুলো দূর করা জরুরি

  সম্পাদকীয় ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড়ে ফের রক্তপাত

পাহাড়ে একের পর এক রক্তপাতের ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে সাতজন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে একই জেলার বিলাইছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা।

প্রথম ঘটনায় বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচন শেষে সাজেক এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ফলাফলসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা দুটি গাড়িতে ব্রাশফায়ার করে।

এতে পোলিং কর্মকর্তা, আনসার-ভিডিপি সদস্যসহ সাতজন নিহত হন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ১১ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন চার পুলিশ সদস্য, এক শিশু, দুই নারী ও তিন আনসার সদস্য। তারা সবাই নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

তাই ধারণা করা হচ্ছে, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চালানো হয় এ হামলা। দ্বিতীয় ঘটনায় ইঞ্জিনচালিত বোটে স্ত্রী ও ছেলেসহ বিলাইছড়ি উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। পথে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে বোট থামিয়ে সুরেশকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ দুই হত্যাকাণ্ডের জন্য কারা দায়ী সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে সংঘটিত বেশকিছু হত্যাকাণ্ডের কারণ ছিল পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংগঠনগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে শান্তি ফিরে এলেও গত কয়েক বছর ধরে সেখানে এক ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জানা যায়, গত ১৫ মাসে এ অঞ্চলে নিহত হয়েছেন ৫৮ জন।

বস্তুত কিছুদিন পরপরই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংগঠনগুলোর সদস্যরা দিনদুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এমনকি কখনও কখনও তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যাচ্ছে।

এর একটি বড় দৃষ্টান্ত হল গত বছরের আগস্টের হত্যাকাণ্ড। সে সময় খাগড়াছড়ি সদরের একটি পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে একদল সশস্ত্র লোক এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) তিন নেতাসহ ছয়জনকে হত্যা করে।

তাই প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহিংসতাকারীদের দমন করতে পারছে না কেন? বস্তুত সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায় না। সেখানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটে; কিন্তু বিচার হয় না। মামলা হয়; কিন্তু সেসব মামলার কোনো অগ্রগতি হয় না। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংগঠনগুলোর সদস্যরা পরস্পরকে হত্যা করার কাজে যেভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে, তাতে মনে হয় পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য। প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

খুঁজে বের করতে হবে সংগঠনগুলোর অস্ত্রের উৎস। একইসঙ্গে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনে তাদের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। সংগঠনগুলো দিনের পর দিন খুনখারাবিতে লিপ্ত থাকলে পাহাড়ে শান্তি আবার হবে সুদূরপরাহত।

পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের পর এ অঞ্চলকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তা আর কখনই আলোর মুখ দেখবে না। তাই পাহাড়ে রক্তপাতের কারণগুলো দূর করতে হবে দ্রুত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×