নিরাপদ খাদ্য ও পানির নিশ্চয়তা চাই

  ফারিহা হোসেন ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপদ খাদ্য ও পানির নিশ্চয়তা চাই

বেঁচে থাকার জন্য পানি ও খাদ্য অপরিহার্য। কিন্তু সব পানি যেমন পানের যোগ্য নয়, তেমনি সব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। বিশুদ্ধ পানিই কেবল পানের যোগ্য। স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ খাদ্যই জীবন বাঁচাতে, রোগমুক্ত রাখতে সক্ষম।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যে খাবার খাই তার কতটুকু নিরাপদ, মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত? হলফ করে বলা যায়, আমরা প্রতিদিন যা খাচ্ছি তার নব্বই ভাগই অস্বাস্থ্যকর, অনিরাপদ। অথচ বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত ও ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী তৎপরতা রয়েছে। যেমন- নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের টহল কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই কার্যক্রম শুধু রাজধানীতে নয়, দেশের অপরাপর বিভাগীয় জেলা, এমনকি উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচালনা করা অপরিহার্য। একইসঙ্গে মাটি, পানি ও ফসলকে বিষমুক্ত রাখার প্রযুক্তি ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করাও জরুরি।

দেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে। নতুন নতুন ধান এসেছে। উচ্চ ফলনশীল এসব ধান দেশে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু অধিক ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে আমরা যে জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছি, তা কি কেউ ভেবে দেখেছে?

ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির গবেষণায় যে তথ্য মিলেছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ। গবেষণার জন্য চালের যে ২৩২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার ১৩১টিতেই মিলেছে বিভিন্ন মাত্রার ক্রোমিয়াম। ১৩০টিতে পাওয়া গেছে ক্যাডমিয়াম ও সিসা। ৮৩টিতে মিলেছে আর্সেনিকের অস্তিত্ব। কী সাংঘাতিক!

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, সিসা ও আর্সেনিক মানুষের শরীরে ঢুকলে তা আর বের হতে পারে না। সবক’টিই দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এ ছাড়া ক্যান্সারসহ নানা ধরনের ক্রনিক রোগের বড় উৎস এসব রাসায়নিক। এককথায়, এগুলো ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। মানবদেহে অতিরিক্ত ক্যাডমিয়াম জমা হলে এর মারাত্মক বিষক্রিয়ায় ক্যান্সার, হৃদরোগ ও কিডনি রোগ হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের নীতিমালা অনুসারে মানবদেহের জন্য ক্রোমিয়ামের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ১ পিপিএম। কিন্তু জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের গবেষণায় চালে ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে ৩.৪১৪ পিপিএম পর্যন্ত।

ক্যাডমিয়ামের সহনীয় মাত্রা ০.১ হলেও পাওয়া গেছে ৩.২৩৯৫ পর্যন্ত। সিসার সহনীয় মাত্রা ০.২ হলেও পাওয়া গেছে ১.৮৭ পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালে ক্যাডমিয়ামের প্রধান কারণ জমিতে প্রয়োগকৃত নিম্নমানের টিএসপি সার এবং ওষুধ কারখানা ও ট্যানারির অপরিশোধিত বর্জ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারের পরিণতি কমবেশি সবাইকেই ভোগ করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে শিশুরা। বিশেষ করে সঠিক মান রক্ষা করে এবং প্রয়োগবিধি না মেনে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে একাধারে উৎপাদিত ফসল, মাছ, পানি ও জমি মারাত্মকভাবে বিষাক্ত হয়ে থাকে।

এর যে কোনো মাধ্যম থেকে মানুষের শরীরে সহজেই ঢুকে পড়ছে এই বিষাক্ত উপাদান। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফসল ও মাছে ভারি ধাতু ঢুকছে মূলত মাটি ও পানি থেকে। মাটি ও পানি এমনভাবে রাসায়নিক দূষণের কবলে পড়েছে, যা খাদ্যচক্র হয়ে মানবদেহে ঢুকে মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। নানা ধরনের জটিল রোগের ঝুঁকিতে ফেলছে মানুষকে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা।

ফারিহা হোসেন : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×