থামাতেই হবে সড়কের এ নৈরাজ্য: মৃত্যুর পর মৃত্যু

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

থামাতেই হবে সড়কের এ নৈরাজ্য: মৃত্যুর পর মৃত্যু
থামাতেই হবে সড়কের এ নৈরাজ্য: মৃত্যুর পর মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরারের মৃত্যুর পর রাজধানীসহ দেশব্যাপী আন্দোলন হয়েছে একদিকে, অন্যদিকে প্রতিদিনই একই ধরনের মৃত্যুর শিকার হয়ে চলেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ। বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। অতঃপর একটি প্রশ্নই ঘুরেফিরে দেশবাসীকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে রাখছে- তবে কি এ ধরনের মৃত্যুর শেষ বলে কিছু নেই? ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে- প্রতিদিনই কিছু মানুষ সড়কে প্রাণ হারাবেন, কখনও কখনও বিশেষ কোনো মৃত্যু নিয়ে আন্দোলন হবে, হৈচৈ হবে, কিন্তু মৃত্যু রোধ করা যাবে না। বস্তুত দেশের মানুষ প্রতিদিনই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন এবং তাদের মধ্য থেকে অন্তত কয়েকজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

সড়কে মৃত্যুর নিয়তি এমনই অখণ্ডনযোগ্য যে খোদ ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, রাস্তায় শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি আমরা। এই ‘আমরা’ বলতে নিশ্চয়ই পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরও বুঝিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠবেই, তাহলে রাজধানীর রাজপথে যে বিপুলসংখ্যক ট্রাফিক পুলিশকে কর্তব্যরত অবস্থায় দেখা যায়, তারা প্রকৃতপক্ষে কী করেন? ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, আবরারকে যে বাসটি চাপা দিয়েছিল, সেটির রুট পারমিট ছিল ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, অথচ সেটি চলাচল করত ঢাকায়।

এই বাসটির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে ২৭টি মামলাও হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রশ্ন হল, এ ধরনের একটি বাস যে রাজধানীতে চলাচল করত, সেটা ট্রাফিক পুলিশ জানল না কেন? অথবা এই বাসটিকে ঢাকায় চলাচল থেকে নিবৃত্ত করার দায়িত্ব ছিল আসলে কোন্ কর্তৃপক্ষের?

আমরা আর সড়ক দুর্ঘটনার পর ঢাকঢোল পিটিয়ে কমিটি-উপকমিটি গঠনে সন্তুষ্ট হতে চাই না। কমিটি গঠিত হবে, সেই কমিটি সুপারিশমালা তৈরি করবে, অতঃপর চারদিকে নীরবতা- এই পরিস্থিতি বছরের পর বছর চলতে পারে না। জানা গেছে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত ১২৯ দফা সুপারিশ করেছে সরকারের বিভিন্ন কমিটি ও সংস্থা। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছে আরও ২১টি সুপারিশ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি।

শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনাও উপেক্ষিত হয়েছে, এমনকি বিভিন্ন সময়ে দেয়া আদালতের নির্দেশনাও পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি। তবে কি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সমাজের এমন শক্তিশালী অংশ, যারা নিজেদের অপ্রতিরোধ্য মনে করে যা খুশি করার ক্ষমতা রাখে?

এই নৈরাজ্যের অবসান হতেই হবে। সড়ক ব্যবস্থাপনা এমন কোনো দুরূহ কাজ নয় যে, তা কোনোভাবেই মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো, সর্বোপরি সরকার যদি সত্যি সত্যি নিরাপদ সড়ক গড়তে চায় এবং সেভাবে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা সম্ভব নিশ্চয়ই। আমরা সেই সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা দেখতে চাই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×