বিরল দৃষ্টান্ত

নিউজিল্যান্ডের অনুসরণে দূর হোক ঘৃণা-সন্ত্রাস

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সন্ত্রাস

নিউজিল্যান্ডের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলিমের প্রাণহানির পর দেশটির নেয়া পদক্ষেপে বিশ্ববাসীর প্রশংসায় ভাসছে শান্তিপ্রিয় দেশটি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সব মানুষের কাছে প্রশংসা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের নেয়া পদক্ষেপগুলো।

বস্তুত, ঘৃণা-বর্ণবাদ ও সন্ত্রাস দিয়ে নয়, কট্টরপন্থা দমন করতে হয় ভালোবাসা দিয়ে- শান্তিপ্রিয় মানুষজন নিরবচ্ছিন্নভাবে এমন বাণী উচ্চারণ করে গেলেও বিভিন্ন দেশের নেতারা নিজেদের ভোটব্যাংক রক্ষা, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও পকেটভারি করার মানসিকতার কারণে ভালোবাসা দিয়ে সবার মন জয়ের উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নিউজিল্যান্ডের তরুণ প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন। বিশ্ব থেকে ঘৃণা, বিদ্বেষ, সুনির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী মনোভাব দূর করে শান্তির প্রসারে তাকে অনুসরণ করতে পারেন অন্য নেতারা।

পশ্চিমা দেশগুলোতে যেখানে শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানের যে কোনো হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা ও হামলাকারীকে সন্ত্রাসী না বলে বলা হয় ‘নিঃসঙ্গ শিকারি’, ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’, ‘প্রতিশোধপরায়ণ’ ইত্যাদি, সেখানে আরডার্ন প্রথমেই ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলেছেন অবলীলায়। এর থেকে প্রমাণিত যে, তিনি শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ বা সংকর জাত দিয়ে নয়; বরং সন্ত্রাসী কার্যক্রম দিয়ে সন্ত্রাসকে মাপতে চান।

এখানেই পশ্চিমা অন্য নেতাদের ছাপিয়ে অনন্য উচ্চতায় চলে গেছেন তিনি। তারপর যেভাবে হামলার দিন থেকে নিয়ে গত ৮/৯ দিন হতাহতদের পাশে, তাদের পরিবাবের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এমনকি উন্নত একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও অচেনা-অজানা স্বজন হারানো মানুষকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন, তা থেকেই তার মানবিক-শান্তিকামী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

মনে রাখা দরকার, ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে মসজিদে হামলা নিউজিল্যান্ডেরটিই প্রথম নয়। এ ধরনের হামলা তো বটেই, নিজেদের খোদ স্কুল-কলেজে অস্ত্রধারীর হামলায় বহু প্রাণহানি ও তৎপরবর্তী তীব্র প্রতিবাদ-শোভাযাত্রার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ যেখানে নিজেদের অস্ত্র আইনে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেনি, সেখানে মুসলিমদের মসজিদে হামলার পরপরই ১০ দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ও আধা-সামরিক কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রের লাইসেন্স বন্ধের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাছাড়া হতাহতদের পক্ষে, শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়ে মুসলিমদের ধর্মীয় পোশাক হিজাব পরেছেন জাসিন্ডা, পুরো দেশবাসী তাকে অনুসরণ করেছে। জুমার নামাজ ও আজান পুরো দেশজুড়ে রেডিও-টিভিতে সম্প্রচারের উদ্যোগ যেভাবে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড, তা শান্তির পক্ষে দেশটির কমিটমেন্টেরই বহিঃপ্রকাশ। এসব করতে গিয়ে হত্যার হুমকি পেয়েছেন জাসিন্ডা, এমনকি অস্ট্রেলিয়ার একজন সিনেটর মুসলিমদের দায়ী করার পর পাল্টা-জবাবও দিয়েছেন তিনি। শান্তির পক্ষে জাসিন্ডার এমন উদ্যোগে বিরোধীপক্ষ থেকেও সক্রিয় সমর্থন পাওয়াও যে তার নেতৃত্বের যোগ্যতা, তাতে সন্দেহ নেই।

সব ধর্মেই শান্তির বাণী রয়েছে; কিন্তু চরমপন্থীরা নিজেদের হীন স্বার্থে ঘৃণা-বিদ্বেষ, সন্ত্রাস ও ভয়কে হাতিয়ার করে থাকে। জাসিন্ডা এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন এবং তিনি সফলও হয়েছেন বলা যায়। নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দরকার জাসিন্ডার মতো একজন নেতা। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফোন করে কী ধরনের সহায়তা করতে পারেন, জানতে চাইলে জবাবে ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সহানুভূতি ও ভালোবাসা প্রকাশ’ চেয়েছেন জাসিন্ডা। আমরা মনে করি, কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, নয় কেবল আমেরিকার জন্যও; পৃথিবীর সব দেশ, মানুষ ও সম্প্রদায়ের জন্য দরকার সম্প্রীতি ও ভালোবাসা। এজন্য অস্ত্র আইন নিয়ন্ত্রণসহ নিউজিল্যান্ডের নেয়া পদক্ষেপগুলোর অনুসরণ ঘৃণা-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সবার জন্য ফলপ্রসূ হতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×