ফিটনেসবিহীন গাড়ির ছড়াছড়ি

বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ করছেটা কী?

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কের নৈরাজ্য এখন নিত্যদিনের আলোচনার বিষয়। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে আর অনিয়মের নতুন নতুন তথ্য বেরোচ্ছে। গতকাল যুগান্তরে ছাপা হয়েছে- সারা দেশে এখন পর্যন্ত গাড়ির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে ৩৮ লাখ, এর মধ্যে ৫ লাখ গাড়িরই ফিটনেস নেই। অনিয়মের যেন শেষ নেই। এ পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন ২২ লাখ চালক, বিপরীতে অবৈধ চালকের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া না গেলেও এ সংখ্যা হবে ১০ লাখেরও বেশি। আর বৈধ রুট পারমিট? উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যানবাহনের নেই এই পারমিট।

এ ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই যে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অবৈধ-অদক্ষ-অপ্রশিক্ষিত চালকরাই মূলত সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ দুই কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ। শুক্রবার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বরিশালে বিএম কলেজের ছাত্রীসহ নিহত হয়েছেন ৭ জন। একই দিনে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বেঁচে গেছেন অল্পের জন্য। তার গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়েছে যে বাসটি, সেটির চালকের ছিল না লাইসেন্স। অবাক কাণ্ডই বটে, আবরার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন যে জায়গাটায়, তার অনতিদূরেই শুক্রবার মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে পড়েছেন এক বৃদ্ধ। দুর্ঘটনার এসব চিত্র সারা দেশে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

সড়কে কেন এই অরাজকতা? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার মহোৎসব চলছে যেন। ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক অনেক মৃত্যু। খোদ ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন ব্যর্থ হচ্ছেন তারা? তার মুখে এ কথা শোভা পায় না, কারণ সড়কে যে নৈরাজ্য চলছে তা দূর করার মূল দায়িত্বই হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ প্রশাসনের। অবশ্য বিআরটিএও দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি শনাক্ত করা তাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। উপরন্তু আনফিট গাড়িকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগও রয়েছে এ সংস্থার বিরুদ্ধে।

বস্তুত, পরিস্থিতি যে পর্যায়ে নেমে গেছে, তাতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজটি এখন এক ‘জাইগানটিক টাস্কে’ পরিণত হয়েছে। একটি সর্বদিকবিস্তৃত মহাপরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন ছাড়া এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা মনে করি, সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর তথা সরকারের উচিত হবে এমন এক কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা, যাতে সড়কের নৈরাজ্য দূর হয়ে সেখানে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে শৃঙ্খলা। অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর সংখ্যা গোনার দিন শেষ হতে হবে অবশ্যই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×