সড়কে অব্যাহত নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা, এসবের অবসান ঘটবে কবে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কে অব্যাহত নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা
ছবি: যুগান্তর

সড়ক-নৈরাজ্যের ধারাবাহিকতায় এবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) একজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার পর বাসের চাকায় পিষে মারার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, সিকৃবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিম আফনান গত শনিবার ময়মনসিংহ থেকে সিলেট যাওয়ার পথে ভাড়া নিয়ে বাসের চালক ও হেলপারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার পর হত্যা করা হয়।

উদ্বেগজনক হল, সড়কে এদিন শুধু ওয়াসিম আফনান নন, একই সঙ্গে গাজীপুরে বাসচাপায় দুই কলেজছাত্র এবং লৌহজংয়ে এক স্কুলছাত্র নিহত হওয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বিশ্বে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। আহত হচ্ছে অন্তত ৫০ মিলিয়ন মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর এ হার এইচআইভি-এইডস, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ায় সম্মিলিত মৃত্যুহার অপেক্ষা বেশি, যার অধিকাংশই ঘটছে বাংলাদেশসহ অনুন্নত দেশগুলোয়।

এ অবস্থার পরিবর্তন চাইলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে সমস্যাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত। আমরা মনে করি, সড়কে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুহার ও নৈরাজ্য রোধ করতে হলে এজন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, গাড়ির নিবন্ধনসহ চালকের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের খামখেয়ালিপনা ও নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর কারণেই সড়ক দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটে থাকে। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশে প্রতি বছর সড়কপথে অন্তত ৫ হাজার দুর্ঘটনা ঘটছে।

এসব দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কমপক্ষে ৪ হাজার মানুষ ও পঙ্গুত্ব বরণ করছে এরও দ্বিগুণ এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের এখানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটে দোষী চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না; অবশ্য আইন মানার ক্ষেত্রে পথচারীরাও খুব একটা আন্তরিক নন। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে সময়ে সময়ে নানারকম পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদান করা হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, সড়কে প্রতিদিন আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা তারই প্রমাণ।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মানুষের আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা মেনে নেয়া কষ্টকর। প্রতিদিন যদি এমন বেদনাদায়ক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের; তাহলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এত আন্দোলন, এত সুপারিশ ও পরামর্শ কোন কাজে লাগল?

গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল, এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি পূরণ করা হয়েছে এবং বাদবাকি দাবি উপেক্ষিতই রয়ে গেছে, যা মোটেই কাম্য নয়। পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ। এ ব্যাপারে কালক্ষেপণ করলে সড়কে মৃত্যুর পরিসংখ্যান দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে, তা বলাই বাহুল্য।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিতসহ ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা ব্যয় বহনে বাধ্য করা হলে দেশে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে বলেই মনে হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এক কথায় ভয়াবহ।

একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিবহন ব্যবস্থায় নজরদারি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সড়কপথের সংস্কার ও উন্নয়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। এদিকেও নজর দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×