রমজানের আগেই কারসাজি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর হোন

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজানের আগেই কারসাজি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর হোন
ফাইল ছবি

একটা সময় ছিল যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজান মাস, ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবের সময় বাড়তি চাহিদা ও সরবরাহ অপ্রতুলতার অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াত; কিন্তু রমজান, ঈদ ও উৎসবকেন্দ্রিক বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বাড়তি পদক্ষেপের কারণে এখন দুই-তিন মাস আগ থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেয়া হয়।

তারপর রোজায় সরকারের তৎপরতা শুরু হলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে মাঝ রোজায় দাম স্বাভাবিক করার কথা বলে বাড়ানো দামের কিছুটা কমানো হয়। এভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের পকেট কেটে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ।

বিষয়টি যে ওপেন সিক্রেট, তা প্রমাণিত হয় হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম অনেক বেড়ে যাওয়া। ফলে রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এখনই অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

জানা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক দ্রব্যের দাম দু’সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক শতাংশ বেড়েছে। যেমন- ব্রয়লার মুরগির দাম ১২০-১৩০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫-১৭৫ টাকায়, লেয়ারের ২১০-২৩০ এবং পাকিস্তানি ককের ২৬০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০-৩০০ টাকায়।

গরুর মাংসের দাম ৪৮০ থেকে বেড়ে ৫৫০ ও খাসির মাংসের কেজি ৭০০-৭৫০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮০-৮০০ টাকায়। এছাড়া নানা ধরনের সবজির কেজি ১০০ টাকা যেমন ছুঁয়েছে, তেমনি মাছ, তেল-মসলা সবকিছুরই দাম বাড়ানো হয়েছে অযৌক্তিক হারে। যেহেতু নতুন কৌশলে সরকারকে ফাঁদে ফেলে অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের পকেট কেটে যাচ্ছে, সেহেতু সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই সতর্ক হতে হবে। অন্যথায় বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, তাতে সন্দেহ নেই।

আশার কথা, বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেও সিন্ডিকেটের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বক্তব্যে তুলে ধরেছেন এবং রমজানে দাম বাড়াতে দেয়া হবে না বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু এখনই বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা না নিলে এটা যে কেবল কথার কথা হয়ে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অন্যদিকে ভোক্তাদেরও কৌশলী হতে হবে এবং রমজানের শুরুতেই আগাম অনেক দিনের বাজার করে জমা রাখার প্রথা ছাড়তে হবে। এতে করে বাড়তি চাহিদা দেখিয়ে ও জোগানের স্বল্পতার কথা বলে বাড়তি দাম নেয়ার পথ রুদ্ধ হতে পারে। সর্বোপরি, রমজান সংযমের মাসের অর্থ হল খাওয়া-দাওয়া ও অপচয় কম করা এবং বেশি বেশি ইবাদত করা।

ভোক্তারা বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের শীর্ষমহল সবাই কঠোর হলে স্থিতিশীল বাজারমূল্য অসম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×