ধান ক্রয়ের পরিকল্পনা: কৃষকের স্বার্থে বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়া দরকার

  সম্পাদকীয় ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধান ক্রয়
ধান ক্রয়। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আমন মৌসুমে ৮ লাখ টন চাল কিনেছে সরকার। কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য তখন বাজার মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ৩ টাকা বেশি দরে চালের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

উল্লিখিত পরিমাণ চাল ক্রয়ে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ অতিরিক্ত ব্যয় হলেও এ অর্থ প্রান্তিক কৃষক পাননি। কারণ চাল ক্রয় করা হয়েছে মিলারদের কাছ থেকে। অর্থাৎ সরকারের প্রণোদনার অর্থ গেছে মিলারদের পকেটে। এ অবস্থায় কৃষকের প্রণোদনার অর্থে যাতে কৃষকরাই উপকৃত হতে পারেন, সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছে সরকার। চলতি বোরো মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে চালের বদলে ধান কেনার চিন্তা করছে সরকার।

এ মাসের ২৮ তারিখে খাদ্য সংগ্রহবিষয়ক এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ রকম একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা দেখা দেবে, এটাই স্বাভাবিক। কৃষকের স্বার্থের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সেসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের হাটবাজারে প্রতি মণ ধান সর্বনিু ৫৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দরে প্রতি কেজি ধানের দাম প্রায় ১৮ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এবার প্রতি কেজি আমন ধানের উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা ৩০ পয়সা। এ হিসাবে প্রতি কেজি ধানে কৃষকের লোকসান হচ্ছে প্রায় ৬ টাকা।

এই একটি তথ্য বিবেচনায় নিলেই স্পষ্ট হয়, দেশের সাধারণ কৃষক ফসল ফলিয়ে কতটা লাভবান হচ্ছেন। বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধির ফলে কী করে দেশের মধ্যস্বত্বভোগীরা উপকৃত হয়ে থাকেন, এটি বহুল আলোচিত। কৃষিপণ্যের বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধির ফলে যাতে প্রান্তিক কৃষকই লাভবান হতে পারেন, সরকার এ বিষয়ে দৃষ্টি দেবে, এটাই প্রত্যাশিত। এতে বিপুলসংখ্যক প্রান্তিক কৃষকের ঋণের বোঝা কিছুটা হলেও হালকা হবে।

আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পরপরই কৃষক তা বিক্রি করতে বাধ্য হন। কারণ বেশিরভাগ কৃষক ঋণ করে ফসল ফলান। এ অবস্থায় বিভিন্ন কৃষিপণ্য ক্রয় করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী মজুদ করে রাখেন। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে এসব মজুদদাররাই উপকৃত হন। কখনও কখনও মজুদদাররা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকেন। এতে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এসব সমস্যা দূর করার পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে শস্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাসহ কৃষকবান্ধব অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×