কৌশলে কোচিং বাণিজ্য

নীতিমালা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোচিং বাণিজ্য

সারা দেশের একশ্রেণীর শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত থাকার বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ জন্য বেশিরভাগ অভিভাবককে শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয়। শিক্ষকরা কোচিং করাতে পারবেন না, বিষয়টি এমন নয়।

তারা ২০১২ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মেনে কোচিং করাতে পারবেন। প্রশ্ন হল, ওই নীতিমালা ক’জন শিক্ষক মানছেন? মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে এবার স্কুলকক্ষেই কোনো কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

কোথাও কোথাও কোচিংবাজ শিক্ষক স্বয়ং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্যের, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সহায়তা পান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ সত্য হলে কোচিংবাজ শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা কঠিন হবে। এদিকে সরকারের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

শিক্ষকতা পেশাটি আর দশটি পেশা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। নৈতিকতার চর্চায় শিক্ষকরা হবেন আপসহীন, এর ব্যত্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বর্তমানে কোনো কোনো কোচিংবাজ শিক্ষক ও তাদের সহযোগীদের কারণে শিক্ষকদের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

এখন কোনো কোনো কোচিংবাজ শিক্ষক এমন কৌশল অবলম্বন করেন যে, শিক্ষার্থীরা তার কাছে কোচিং করতে বাধ্য হয়। অনেক কোচিংবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা শ্রেণীকক্ষের পাঠদানে মনোযোগী নন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী তাদের কাছে কোচিং করে না, ওইসব শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে ও পরীক্ষার হলে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এসব কোচিংবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে সব ধরনের কোচিং ৫ সপ্তাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বস্তুত প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতেই নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। এই নিয়ম যাতে সবাই মেনে চলে, এ ব্যাপরে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেসব কোচিংবাজ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করার জন্য বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে আরও অনেকেই কৌশলের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করবে। শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে কোচিং নামক ব্যাধি দূর করা কঠিন কোনো কাজ নয়। সব শিক্ষক এবং স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্য তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সতর্ক থাকবেন, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×