মামলার নথি গায়েব

গুরুতর এ অনিয়ম দূর করতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুপ্রিমকোর্ট

একটি দুটি নয়, সুপ্রিমকোর্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলার নথি গায়েব হয়ে যাচ্ছে। আবার টাকার বিনিময়ে সে নথি ফেরতও পাওয়া যাচ্ছে। একটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনে যদি এমন গুরুতর অনিয়ম হয়, তবে সেখানে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি কী ধরনের প্রশ্নের মুখে, তা ভাবতেই শিউরে উঠতে হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। শুনানির পর চার মাসের স্থগিতাদেশ ও রুল জারি করেন আদালত। তারপর ওই স্থগিতাদেশ আবার বর্ধিতও করেন উচ্চ আদালত।

কিন্তু তারপর থেকে এ স্থগিতাদেশের কোনো নথি আদালতে পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান, অভিযোগ ইত্যাদির পরও কোনো হদিস মেলেনি ওই মামলার নথির। আরেক ভুক্তভোগীর সিএমএম আদালতের একটি মামলার ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের নথি না পাওয়ায় পুনরায় মামলা চালু করে দিয়েছে সিএমএম আদালত।

এ ধরনের ঘটনা অনেক। এভাবে বহু মানুষকে মানবাধিকার, এমনকি আইনের সুরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। বর্তমান স্বাধীন বিচার বিভাগের সময় এমন ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

উদ্বেগের বিষয়, কেবল নথি গায়েবই নয়, উচ্চ আদালত প্রশাসনকে ঘিরে নানামুখী চক্র আরও গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া আদেশে জামিন পাইয়ে দেয়া, বিচারপতিদের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন আদেশ ও কোনো ধরনের মামলা ছাড়াই নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে ভুয়া ওয়ারেন্ট জারি করে হয়রানি, অর্থ আদায় ইত্যাদি।

আমরা মনে করি, উচ্চ আদালতের মতো স্পর্শকাতর একটি জায়গায় এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এতে যে কেবল অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে তাই নয়, একইসঙ্গে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার নিয়েও ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।

সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের উচিত এ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অন্যথায় আইনের শাসন ও আইনি প্রতিকারের মতো বিষয়ে মানুষের মনে সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি হবে এবং আস্থা হারিয়ে যাবে।

অভিজ্ঞ আইনজীবীরা বলছেন, নথি হারিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ যেমন নতুন নয়, তেমনি অর্থের বিনিময়ে হারিয়ে যাওয়া নথি পাওয়ার নজিরও রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, আদালতেরই একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারী মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

এখনই কঠোর হাতে এদের দমন করা না হলে ভবিষ্যতে নথি গায়েব, স্বাক্ষর জাল করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম আরও বাড়বে। সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক বলেছেন, বার থেকে নথি গায়েবের মতো অনিয়ম দূরীকরণে একটি কমিটি করা হয়েছিল এবং কমিটি প্রতিবেদনও দিয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদন আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে দ্রুত। নথি শাখা থেকে কম জনবলের কথা বলা হচ্ছে। কথা হল, কম লোকবলের কারণে দেরি হতে পারে; কিন্তু নথি তো গায়েব হতে পারে না। তারপরও যেসব সমস্যা সামনে এসেছে সেগুলো সমাধানের পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনে জোর দেয়া হলে জালিয়াতি-কারসাজি বন্ধ হবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×