সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষা পাক

  মো. রেদোয়ান হোসেন ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি আধিপত্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম বিদ্রোহ। এ বিদ্রোহই তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের মনে জাতীয়তাবোধ, সংস্কৃতি, স্বাধিকার ও শৃঙ্খলমুক্তির চেতনার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়। একুশে ফ্রেব্রুয়ারি থেকেই সূচনা ঘটে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও গণতন্ত্রের আন্দোলনের এবং শেষ পর্যন্ত ১৯ বছর পর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। তাই স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব, মহত্ত্ব ও তাৎপর্য অনন্য। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আন্দোলন ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম। পরবর্তী সময়ে তা স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়।

একুশে আজ শুধু ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ছাত্রদের শোকের দিনই নয়, এ দিনটির সঙ্গে যদিও রক্ত, অশ্রু, শোকের অনুষঙ্গ হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ, নগ্ন পদযাত্রা, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে; তবে কালের প্রবাহে এটি ভাষা ও জাতীয়তা উন্মেষের স্মারক উৎসবেও পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে এ দিনটি স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। এ স্বীকৃতি দিনটির একটি বৈশ্বিক প্রাসঙ্গিকতাও ঘোষণা করছে। আজ যখন সভ্যতা, প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের চাপে পৃথিবীর অসংখ্য ক্ষুদ্র ভাষা বিলুপ্তির মুখে, তখন সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষাকে টিকিয়ে রাখা এবং বিকশিত করার সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার বার্তাটিও একুশের মধ্যেই আমরা পাই।

১৯৫২ সালের পর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতি বছর ফিরে এসে এ প্রশ্নটি আমাদের মনে জাগিয়ে তোলে যে, মাতৃভাষার যথাযোগ্য অবস্থান, মর্যাদা ও বিকাশ নিশ্চিত করার কাজে আমরা আসলেই কতদূর এগোতে পেরেছি? দুঃখের বিষয়, কিছু সাফল্য সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা রয়ে গেছে এবং নতুন নতুন প্রতিকূলতা মাথা তুলছে। রাষ্ট্রীয়, শিক্ষাগত ও সামাজিক জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন আজও হয়নি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক জাতিসত্তার ভাষাই বিলুপ্তির পথে, শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজির প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে, বাংলাকে যেন ক্রমাগতই পিছু হটতে হচ্ছে। এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের মাধ্যমে অর্জিত যে ভাষা, তার প্রতি এ উপেক্ষার বিষয়টি জাতি হিসেবে নিশ্চয়ই আমাদের সংকীর্ণ করে দেয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মৌখিক ভাষা হারিয়ে যেতে বসলেও তা রক্ষার জোরালো কোনো উদ্যোগ এতদিন দেখা যায়নি। এটা আমাদের দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য এক গুরুতর সমস্যা। এ জটিল সময়ে একুশের চেতনা সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষা ও বিকাশে প্রেরণা জোগাবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

মো. রেদোয়ান হোসেন : শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কালিহাতী, টাঙ্গাইল

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter