ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

সবাইকে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণে বাধ্য করতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন
বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির ক্ষত না শুকাতেই রাজধানীতে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বলে পরিচিত বনানীতে অবস্থিত ২২ তলা এফআর টাওয়ারে ঘটে মর্মান্তিক এ অগ্নিকাণ্ড।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় শ্রীলংকার এক নাগরিকসহ ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৩ জন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফআর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের সঙ্গে যোগ দেন সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। এলাকার সাধারণ মানুষও উদ্ধার কাজে অংশ নেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৬ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বলা বাহুল্য, উদ্ধার অভিযানে এ সম্মিলিত অংশগ্রহণ না থাকলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ত। আমরা মনে করি, এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং যথাযথ বিল্ডিং কোড মেনে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল কিনা তা উদ্ঘাটন করা জরুরি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করি।

তবে রাজউকের চেয়ারম্যান বলেছেন, এফআর টাওয়ার রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশে অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রচুর প্রাণহানিও ঘটছে। তারপরও এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না কেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, কোনো দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ সাধারণত দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কমিটি ইত্যাদির আয়োজন করে কিছুদিন বেশ সরব ভূমিকা পালন করে। পরে বিষয়টি বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে পুরান ঢাকার নিমতলীতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। নিমতলীর হৃদয়বিদারক সেই ঘটনায় অনেক মানুষ জীবন্ত দগ্ধ হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর দাবি উঠেছিল, শুধু পুরান ঢাকা নয়, রাজধানীর কোনো আবাসিক এলাকায় যেন বিপজ্জনক কোনো রাসায়নিকের মজুদ না থাকে।

জনদাবির প্রেক্ষাপটে সরকার এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছিল। কিন্তু চকবাজারের চুড়িহাট্টায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড আমাদের কথা ও কাজের ফারাক স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, অগ্নিকাণ্ড একই সঙ্গে জীবন ও সম্পদবিনাশী। দেশে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ, উদ্ধার প্রক্রিয়া ও জনসচেতনতা যতটুকু থাকা দরকার, তা নেই বললেই চলে।

এ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্যোগের সম্ভাব্য বিপদ ও ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। সরকার প্রণীত ‘বিল্ডিং কোড’ মেনে ভবন নির্মাণ, রাজউকের অনুমোদিত নকশা বাস্তবায়নে কড়াকড়ি, নির্মিত ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবনের রেট্রোফিটিং ও একটি ‘কনটিনজেন্সি প্ল্যান’ (আকস্মিক দুর্ঘটনা মোকাবেলায় পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা) তৈরি করতে হবে।

বিশ্বের অনেক দেশে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার প্রযুক্তির ব্যবহার চালু হয়েছে। বাংলাদেশেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। এ ছাড়া বিপদ মোকাবেলায় সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং নিয়মিত মহড়া ও স্বেচ্ছাসেবক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×