আবারও আগুন!

এই বিপর্যয় এড়ানোর পথ কী?

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিসিসি মার্কেটে আগুন। ছবি: যুগান্তর
রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিসিসি মার্কেটে আগুন। ছবি: যুগান্তর

বনানী অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আগুনে পুড়েছে গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেট লাগোয়া কাঁচাবাজার। এই বাজারের প্রায় দেড়শ’ দোকানের সবই ভস্মীভূত হয়েছে।

গতকাল ভোরে শুরু হওয়া অগ্নিকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছিল গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট। দুই বছর পর এই মার্কেট লাগোয়া কাঁচাবাজারটিও পুড়ে গেল।

দেখা যাচ্ছে, অগ্নিকাণ্ড এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চকবাজার ট্র্যাজেডির পর বনানী ট্র্যাজেডি, অতঃপর গুলশান অগ্নিকাণ্ডের পর রাজধানীবাসী বস্তুত আগুন আতঙ্কে ভুগছেন। এরই মধ্যে আবার খবর বেরিয়েছে রাজধানীর অন্তত সাড়ে এগারো হাজার বহুতল ভবন রয়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে। এসব ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফায়ার সার্ভিসের কোনো ছাড়পত্র বা অগ্নি-নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনুমোদন নেই।

অর্থাৎ বলা যেতে পারে, এই বিপুলসংখ্যক ভবনে যারা বাস করছেন, অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তাদের জীবন বাঁচবে কিনা, সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রকৃতপক্ষে, রাজধানীতে অনিয়মের কোনো শেষ নেই। বনানীর যে ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জন মানুষের প্রাণ গেছে, সেটি রাজউক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়নি বলে জানা গেছে। ১৮ তলার অনুমোদনে নির্মাণ করা হয়েছে ২৩ তলা, অধিকাংশ ফ্লোরেই ছিল না নির্গমন পথ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, রাজউক তাহলে এতদিন কী করেছে? আমরা মনে করি, ভবনের মালিক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও রাজউকের যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে, আইনের আওতায় এনে অপরাধভেদে তাদের সবারই শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। গণপূর্তমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, বনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো হত্যাকাণ্ড।

এটা কোনো কথা হতে পারে না যে, একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে আর তাতে প্রাণ যাবে মানুষের। আসলে দায়িত্বে অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বত্রই। একেকটি অগ্নিকাণ্ডের পর কিছুদিন কথাবার্তা হয়, হৈচৈ হয়, তদন্ত কমিটি হয়; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

কমিটির পর কমিটি সুপারিশ দিয়েই গেছে, কোনো সুপারিশই বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১০ সালে নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর উচ্চপর্যায়ের কমিটি ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল। সেগুলো বাস্তবায়িত হলে নিশ্চয়ই চকবাজার ট্র্যাজেডি দেখতে হতো না আমাদের।

আমরা লক্ষ করছি, ঢাকা একটি স্বতঃস্ফূর্ত শহরে পরিণত হয়েছে। যে যেভাবে পারছে, গড়ে তুলছে সুউচ্চ ইমারত, নিয়ম-কানুনের কোনো বালাই নেই। একটি বহুতল ভবনে আগুন থেকে বাঁচার শর্তগুলো অনুপস্থিত এসব ভবনে। এমনকি অগ্নিসংকেত বাজানোর মতো প্রাথমিক ব্যবস্থাটিও নেই অনেক ভবনে।

অগ্নিসংকেত, জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ইত্যাদি ছাড়া একটি বহুতল ভবন কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, আমরা বুঝতে পারি না। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষেরও সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

সবচেয়ে জরুরি হল, আগুন যাতে না লাগে সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষের সতর্কতা। এটা ঠিক দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। কিন্তু সাধারণ মানুষ, বিশেষত ভবনের বাসিন্দারা সতর্ক হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বনানী ও গুলশান অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে অগ্নিকাণ্ড এবং তা থেকে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে- এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×