কেন বারবার অগ্নিকাণ্ড

  সাজ্জাদ হোসেন রিজু ৩১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেন বারবার অগ্নিকাণ্ড

প্রশ্নটি সবার মুখে এবং উত্তরটাও জানা; কিন্তু প্রতিকারের উদ্যোগ নেই। মূলত অগ্নি দুর্ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করা, বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ এবং ভবনের চারদিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না রাখা, সর্বোপরি জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করাই বারবার অগ্নিকাণ্ড এবং ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির অন্যতম কারণ।

ফ্লোর ইনটেরিয়র ডিজাইনের সময় অগ্নিঝুঁকির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয় না। ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকার ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে না। ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং অগ্নি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অধিকাংশ সুউচ্চ ভবনে জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি নেই। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার এটিও অন্যতম কারণ।

অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই বললেই চলে। অধিকাংশ সুউচ্চ ভবনের ফায়ার এলার্ম কাজ করে না। ফলে ভবনের লোকজন যখন অগ্নিকাণ্ডের খবর পান ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। এফআর টাওয়ারের ঘটনায় এমনটিই দেখা গেছে।

অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয় না অধিকাংশ ভবনেই। সুউচ্চ ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষ জলাধার নির্মাণের আইন থাকলেও অধিকাংশ ভবনেই তা নেই।

ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় পানির প্রাপ্যতা। উপরোক্ত অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই একটি ভবনে ইউটিলিটি সংযোগের অনুমতি দেয়ার বিধান থাকলেও কখনই তা মানা হয়নি। ফলে দেশের সুউচ্চ ভবনগুলো পরিণত হয়েছে একেকটি মৃত্যুকূপে।

উপরিউক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ও অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী। যেমন গ্যাসের চুলা, ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন, ত্রুটিপূর্ণ ও নিুমানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, দাহ্য বস্তুর যথেচ্ছ ব্যবহার, আবাসিক এলাকায় কেমিক্যালের দোকান ও গুদাম, নিয়মিত ফায়ার সেফটি চেকিং না করানো ইত্যাদি। পরিসংখ্যান বলছে, সিংহভাগ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট আর রান্নার চুলা থেকে।

অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে প্রথমেই প্রয়োজন সচেতনতা। জানমালের ক্ষয়ক্ষতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিহ্নিত কারণগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনা ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

অন্যথায় ভবনের ইউটিলিটি সার্ভিসের সংযোগ না দেয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম উচ্ছেদের মতো উদ্যোগ সারা দেশেই নেয়া প্রয়োজন।

আবাসিক, বাণিজ্যিক আর শিল্পাঞ্চলকে সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলতে হবে। কারণ বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন আর শিল্পকারখানার অগ্নিঝুঁকি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা একরকম নয়। এতে অগ্নি-নিরাপত্তা সমন্বয় করা সম্ভব হবে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিবছর সুউচ্চ ভবনগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনতে হবে, যা আইনেই বলা আছে। অন্যথায় ভবনের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান থাকবে।

যেসব ভবনে নোটিশ জারি করার পরও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে না, সেসব ভবনে ফায়ার সার্ভিস কোনো সেবা প্রদান করবে না মর্মে খোলা নোটিশ জারি করতে হবে। এতে ভবন মালিক ও ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান উভয়েই অগ্নি-নিরাপত্তা জোরদারে বাধ্য হবে। পদক্ষেপটি কঠিন হলেও এখন তা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। নজর দিতে হবে রাজধানীর বস্তিগুলোর দিকেও।

সাজ্জাদ হোসেন রিজু : ব্যাংক কর্মকর্তা

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×