অগ্নি নিরাপত্তায় অবহেলা

কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কি শুধু চিঠি দেয়া?

  যুগান্তর ডেস্ক    ০১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অগ্নি নিরাপত্তায় অবহেলা
বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড। ফাইল ছবি

একেকটা অগ্নিকাণ্ডে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটবে আর ভবন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো চিঠি চালাচালি করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করবে- এটি যেন নিয়ম হয়ে গেছে। সর্বশেষ বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে অনেক হতাহতের পরও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। রাজউক বলছে নিয়ম মেনে ও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে ভবনটি তৈরি করা হয়নি।

১৮ তলার অনুমোদন নেয়া হয় ১৯৯৬ সালে, পরে ২৩ তলা তৈরি করে ২০০৫ সালে রাজউককে জানানো হয়। প্রশ্ন হল, ২০০৫ সালে জানানোর পর রাজউক যখন দেখল তাদের অনুমোদনের সঙ্গে বাস্তব ভবনের মিল নেই, তখন প্রায় ১৪ বছর পার হতে চললেও কেন ভবনটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? রাজউকের হাতে তো ক্ষমতা আছে নিয়মনীতি, নকশামতো তৈরি না হলে ভবন ভেঙে দেয়া, এমনকি সিলগালা করেও দিতে পারে সংস্থাটি। কিন্তু কেন তারা এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? আমরা মনে করি, এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অন্যথায় অগ্নি নিরাপত্তা থেকে ভবন নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি মানাতে মানুষকে বাধ্য করা সম্ভব হবে না।

জানা যায়, যে কোনো অগ্নিকাণ্ড ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর কমিটি তৈরি হয় এবং কমিটি অনেক সুপারিশ করে। কিন্তু ওইসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ার নজির নেই বললেই চলে। তাজরিন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড ও নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর গঠিত কমিটি অনেক সুপারিশ করেছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়িত হওয়া তো দূরের কথা, চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর খোদ বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীদের একে অপরের ওপর দায় চাপানোর ব্লেম-গেম দেখতে হয়েছে আমাদের। এ অবস্থায় কী কারণে, কার গাফিলতিতে সুপারিশ বাস্তবায়িত হয় না- খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। কারণ, সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে অন্তত অগ্নিকাণ্ড ও তাতে প্রাণহানির ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের পর তা পরিদর্শন এবং শেষ পর্যন্ত সবকিছু মেনে ভবনটি তৈরি হয়েছে কিনা দেখে অকুপেন্সি সনদ দেয়ার কথা রাজউকের। অন্যথায় সে ভবনের ব্যবহার বন্ধ, সিলগালা করে দেয়ার ক্ষমতা রাজউকের থাকলেও কেন ভবন মালিক ও নির্মাণকারীরা অকুপেন্সি সনদ নেয় না এবং তা না নেয়ার কারণে রাজউকই বা কেন কোনো ব্যবস্থা নেয় না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এর পেছনে অবৈধ কোনো যোগসাজশ আছে কিনা, খতিয়ে দেখতে হবে। এর বাইরে রাজউকের নিয়মিত পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ অভিযান জোরদারের বিষয়ও নিয়মিত করার বিকল্প নেই। দুর্ঘটনার পর চিঠি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা এবং ভবন তৈরিতে নিয়ম মানা হয়নি বলে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না।

উদ্বেগের বিষয়, রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। ফায়ার সার্ভিসের এক জরিপে দেখা গেছে, ২ হাজার ৬১২টি ভবনের মধ্যে মাত্র ৭৪টি ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক। পরিস্থিতি কত ভয়াবহ তা এ পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। আশার কথা, গণপূর্তমন্ত্রী এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড বলেছেন। এছাড়া দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ভবনটির মালিক ও জমির মালিককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এর সঙ্গে নিয়ম না মেনে ভবন করার পরও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কাদের গাফিলতির কারণে, তাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়। আর চিঠি দিয়ে দায় এড়ানো নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, রাজউক, এমনকি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তায় কঠোর হবে বলে আমরা আশাবাদী।

ঘটনাপ্রবাহ : বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×