শিশুর উপর থেকে চাপ কমুক

  মো. আরিফুল ইসলাম ০১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুর উপর থেকে চাপ কমুক
ক্রিকেট খেলছে শিশুরা। ফাইল ছবি

মানুষের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটে শিশুকাল থেকেই। শিশুরা তাদের জীবনের শুরু থেকেই যেভাবে দেখেশুনে শিক্ষা ও ভালোবাসা-স্নেহ পায়, তা তাদের বাকি জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুর আত্মবিশ্বাস ও অনুসন্ধানী মানসিকতা বৃদ্ধি পায়।

আরেকটু ব্যাখ্যা দিয়ে বললে, খেলাধুলা সিদ্ধান্ত নেয়া ও নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা বাড়ায়, নতুন কিছু করার প্রেরণা জোগায়, শারীরিক গঠনে ভূমিকা রাখে, ধৈর্যশক্তি বাড়ায়, মনোযোগী করে তোলে। সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুরা সামাজিক হয়ে ওঠে। তাদের কথা বলার দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা, নম্রতা, নতুন বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি পায়। উল্লেখিত বিষয়গুলো একজন মানুষের আদর্শ ব্যক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অথচ আমাদের সমাজে শিশুদের নিয়ে চলছে এক ভয়ানক আত্মঘাতী প্রতিযোগিতা। ছেলেমেয়েদের সকাল শুরু হয় গাদা গাদা বই-খাতা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তারপর রুটিন অনুযায়ী স্কুলে যাওয়া, গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে বসা, পরিবারের বড়দের কাছে পড়তে বসা, হোমওয়ার্ক করতে বসা ইত্যাদি। এমনকি শিশুর ছুটির দিনও নির্ধারিত থাকে কয়েকটি টেস্ট পরীক্ষা দেয়ার জন্য। তাদের জীবন যেন বই-খাতা আর চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ। বিনোদন বলতে শিশুরা পাচ্ছে মোবাইল বা কম্পিউটারে ভিডিও গেম খেলার সুযোগ, টেলিভিশন দেখা ইত্যাদি, যেগুলো প্রযুক্তি ও গৃহের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার চাপ শিশুদের ঠিকমতো পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা, সামাজিক মেলামেশা ইত্যাদি থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, যা তাদের মেধা ও শারীরিক বিকাশের অন্তরায়।

শিশুদের উপর থেকে বাড়তি চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা না রাখার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনাটি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই বাস্তবায়ন হবে, যা সময়োপযোগী ও শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। তবে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সংশয় থেকেই যায়? আমরা দেখেছি, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে সরকার শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার বেড়াজাল থেকে বের করিয়ে এনে শিক্ষার প্রকৃত মেধা মূল্যায়নের জন্য চালু করেছিল সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি। শিক্ষার্থীরা যাতে গাইডবইনির্ভর না হয়ে বিষয়বস্তু নিজ আয়ত্তে এনে পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারে, সেজন্য চালু করা হয় এ শিক্ষাপদ্ধতি। সমস্যা হয়েছিল স্বয়ং শিক্ষকদের মধ্যেই সৃজনশীল পদ্ধতিতে ভালোভাবে পাঠদান ও সঠিক নিয়মে পরীক্ষা নেয়ার ব্যর্থতার কারণে। ফলস্বরূপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাইডবইনির্ভরতা না কমে উল্টো বেড়ে যায়।

তাই ধারণা করা যায়, তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ করার পর শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা দেয়া এবং তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। সেসব উপেক্ষা করে শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করতে হলে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। যেমন- নতুন এই শিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষকদের পরিচিত করার জন্য তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর প্রতি যেন শিক্ষকদের পক্ষপাতিত্ব না থাকে সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে। অভিভাবকরা যেন শিশুদের প্রতি প্রতিযোগিতার মানসিকতা ত্যাগ করে তাদের নিজস্ব মেধা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন সে ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যেন বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি সরকারের পাশাপাশি সব পর্যায়ের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

মো. আরিফুল ইসলাম : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×