শিল্পায়নে বড় বাধা উচ্চ সুদ

প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ যথার্থ

  যুগান্তর ডেস্ক    ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুদ

সরকারের পক্ষ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরও ব্যাংক ঋণের সুদ কেন কমছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার শিল্পমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দেশে শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ব্যাংক ঋণ। প্রধানমন্ত্রীর এ পর্যবেক্ষণ যে কতটা সঠিক, তা শিল্পোদ্যোক্তা মাত্রই জানেন। ঋণের উচ্চ সুদহার দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতি এবং ডলারের উচ্চমূল্যসহ নানা কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা বর্তমানে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে সন্দেহ নেই। বিনিয়োগ বাড়লে এবং নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ। অর্থাৎ এর সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনীতির প্রশ্ন জড়িত। তাই ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা জরুরি।

বস্তুত ব্যাংকগুলো অধিক হারে সুদ আরোপ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; পদে পদে সার্ভিস চার্জ আরোপের মাধ্যমে আগ্রাসী আচরণও অব্যাহত রেখেছে। ব্যবসায়ী, ঋণ গ্রহীতা, সাধারণ গ্রাহক প্রত্যেকের হিসাব থেকে সার্ভিস চার্জ ও হরেকরকম কমিশন আদায়ের নামে মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নিচ্ছে তারা।

এতে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশের শিল্প খাত। শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং অর্থনীতির গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে গত বছরের ১৪ মে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার ঘোষণা দেন ব্যাংক মালিকরা।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছরের ১ জুলাই থেকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা ছিল। এজন্য অবশ্য তারা সরকারের কাছ থেকে কয়েক দফা সুবিধা আদায় করে নেন। শুধু তাই নয়, বাজেটে ব্যাংক মালিকদের বেশি মুনাফার জন্য এ খাতের কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এমনকি স্বল্প সুদে সরকারি আমানতের নিশ্চয়তাও পেয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। কিন্তু নানা সুবিধা পাওয়ার পরও কথা রাখেননি ব্যাংক মালিকরা। উল্টো তারা ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছেন। এজন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাদের সমালোচনা করেছেন।

ঋণের সুদহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও অনিয়ম। যথাযথ নিয়ম না মেনে ঋণ দেয়ার কারণে ব্যাংকগুলোকে সংকটে পড়তে হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা গেলে খেলাপি ঋণও কমে আসবে। আর খেলাপি ঋণ কমলে ব্যাংকের সমস্যাও কমে আসবে।

এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা ব্যাংক ঋণ নেবেন, তারা তা সময়মতো পরিশোধ করলে ব্যাংকগুলো সচল থাকবে। তখন সুদের হার কমানোটা কঠিন হবে না। আমরাও মনে করি, খেলাপি ঋণের প্রবণতা বন্ধ হলে ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা সহজ হবে। তাই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এ জায়গাটিতে দৃষ্টি দেয়া। ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে আরও সক্রিয় করা এবং তাদেরকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে ঋণ দিতে বাধ্য করা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×