অটিজম সচেতনতার নানা উপায়

  নির্মল সরকার ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অটিজম শিশু
অটিজম শিশু

আজ ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজমের মতো অপেক্ষাকৃত নতুন একটি বিষয়ে নিজেকে সজাগ ও সময়োপযোগী করার জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।

অটিজম এক ধরনের জটিল নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার বা স্নায়ুবৈকল্য- এটি জানা থাকলেও এর ধরন-ধারণ সম্পর্কে আমাদের তেমন জানা নেই। অটিজমে যেসব আচার-আচরণ, উপসর্গ ও প্রভাব দেখা যায় সে সম্পর্কেও আমরা কমই জানি।

অনেক অটিস্টিক সন্তানের মা-বাবা শুধু এটুকু জানেন, তাদের সন্তান অন্য আর দশটা শিশুর মতো নয়। তাদের আচরণ সবার থেকে আলাদা ও অস্বাভাবিক। অন্যদিকে স্কুলের শ্রেণীতে, খেলার মাঠেও এরা স্বাভাবিক নয়।

ফলে মা-বাবা ও শিক্ষক উভয়েরই অনুমান এই শিশুর মধ্যে কোনো সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া অটিজমের বেশকিছু বিষয় এখনও গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এসব শিশুকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও অসচেতনতার অভাব নেই।

অটিজম সম্পর্কে মানুষের জানার আগ্রহ ও চেষ্টা থাকলেও উপযুক্ত তথ্য, বই-পুস্তক, গবেষণা এবং তেমন প্রচার-প্রচারণা নেই বলে সেটিও সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। এক্ষেত্রে মা-বাবাসহ জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে সে কাজটি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে বিশ্বাস।

এই সচেতনতা প্রারম্ভিক পর্যায়ে অটিজম নির্ণয়ে এবং ইন্টারভেনশনেও সহায়তা করতে পারে। অটিজম চিকিৎসায় এটি একটি বেসিক শর্তও বটে। এটি এদের শিক্ষা, চিকিৎসা, সামর্থ্য, কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিষয়ে উন্নত পরিষেবা পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে অটিজম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক এক হুমকি। সুতরাং অটিজম বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। এক্ষেত্রে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন ভূমিকা রাখতে পারে। এই দিবসে নানা আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে জনসাধারণকে অটিজমের কথা জানানো যায়। যেমন, দেশের হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মাধ্যমে কাজটি করা বেশ সহজ।

শিক্ষার্থীরা অটিজম বিষয়ে সংক্ষিপ্ত রচনা লিখতে পারে, অটিজমের নানা দিক নিয়ে দেয়াল পত্রিকা, পোস্টার তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের বিশেষ বিশেষ স্থানে সেগুলো টাঙানোর ব্যবস্থা করতে পারলে অন্য শিক্ষার্থীরা সেগুলো জানতে পারবে। দেশের পত্র-পত্রিকায় দেশি কিংবা বিদেশি অটিজম বিশেষজ্ঞদের অটিজম সচেতনতাবিষয়ক অভিজ্ঞতা ও লেখা নিয়ে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা করা যেতে পারে। এতে মানুষ একযোগে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারবে। এছাড়া অটিস্টিকদের নিজের সামর্থ্য, অভিজ্ঞতার গল্পও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করা যেতে পারে।

এটি অটিস্টিকদের সমস্যা অনুধাবনে সহায়ক হবে। শিক্ষকরা এদিন নিজ নিজ ক্লাসে অটিজম বিষয়ে তথ্য, সমস্যা তুলে ধরে ছাত্রদের জানাতে পারেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আজকাল অটিজম বিষয়ে নানা গবেষণা নিবন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষকরা সেখান থেকেও সাহায্য নিতে পারেন। অথবা পুরো প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের নিয়ে অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনার ব্যবস্থা করতে পারেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে তহবিল গঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অটিস্টিক পরিবারের কোনো শিক্ষার্থী থাকলে তাকে প্রতিনিধি করে বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে বলা যেতে পারে। ‘অটিজম বিষয়ে সচেতনতা দরকার’ শিরোনামে স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। টি-শার্টে অটিজম বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মেসেজ লিখে তা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা যেতে পারে। এতে মানুষের মধ্যে দেখে শেখার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে পরিবারও সাহায্য করতে পারে। এজন্য সন্তানের মধ্যে অটিজম শনাক্ত হলে মা-বাবাকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের ওই সন্তানের বিষয়ে জানানোর চেষ্টা করতে হবে।

অটিজমের সচেতনতা তৈরিতে পেশাজীবী, সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান নানা উপায়ে সহায়তা করতে পারেন। দেশে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন গবেষণাকর্মও পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই অটিজম নির্ণায়করা ওই সন্তানের মা-বাবাকে বিষয়টির বিভিন্ন দিক নিয়ে বুঝিয়ে তাদের সজাগ করতে পারেন।

নির্মল সরকার : সাবেক অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, নটর ডেম কলেজ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×