বিদ্যালয়গুলো দখলমুক্ত করুন

  আর কে চৌধুরী ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বেশকিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখলদারদের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এসব স্কুলের হালহকিকত পরিদর্শনে গঠন করা হয়েছিল উপকমিটি। বিভিন্ন স্কুল সরেজমিন ঘুরে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রতিবেদন দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পাঁচ সদস্যের ওই উপকমিটির সদস্যরা। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অপদখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে তা কোনো অবদান রাখতে পারেনি। কারণ প্রতিবেদন দাখিলের তিন বছরের বেশি সময় ধরে তা ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। বেদখল হওয়া বিদ্যালয়গুলোর জায়গা উদ্ধারে নেই কোনো পদক্ষেপ।

দখলের খপ্পরে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি পুরান ঢাকার হয়বতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাবুবাজার জামে মসজিদের সন্নিকটে মেঘনা হাসপাতালের পেছনের এই বিদ্যালয়টির বেশিরভাগই আশপাশের ওষুধ ব্যবসায়ীরা দখলে নিয়েছেন। জবরদখলের শিকার হয়েছে ছোট কাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজারের খোদাবক্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাঁটারীবাজার বনগ্রাম রোডের ইসলামিয়া ইউপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও একই অবস্থার শিকার। পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে ওয়াসার পাম্প বসানো হয়েছে। বিদ্যালয় ভবনের প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ব্যবহার করছে রমনা রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয়। এফ কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে বংশাল উচ্চবিদ্যালয়। তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ব্যবহৃত হচ্ছে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে। ছোট কাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে রেখেছে আবদুল হামিদ কালান্দর উচ্চবিদ্যালয়।

রাজধানীর অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দখলদারিত্বের থাবা বিস্তার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সুনিশ্চিতভাবেই সরকারি সম্পত্তি। সরকারি অর্থে যে প্রশাসন চলে তারা এগুলো সুরক্ষার কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না। এসব দেখার যেন কেউ নেই। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উপকমিটি বিদ্যালয়গুলো অপদখলমুক্ত করার পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও তিন বছরের বেশি সময় ধরে তা ফাইলবন্দি থাকা দুর্ভাগ্যজনক। এই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ অবস্থার অবসান কাম্য।

বিদ্যালয়ের দখলকৃত স্থান বিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেয়া দরকার। এজন্য দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে সরকারি সম্পত্তি। আমরা ভেবে পাই না, প্রশাসন সক্রিয় থাকতেও এসব সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের আয়ত্তে কিভাবে যেতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে এসব সরকারি সম্পত্তি দখলে নেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন খাতের দুর্নীতির কথা এখন বহুল উচ্চারিত। ফলে এটা স্পষ্ট, শেকড়ের দুর্নীতি উচ্ছেদ না করা গেলে তা কোনো কাজে আসতে পারে না। আমরা মনে করি, এগুলো বিচক্ষণতার সঙ্গে বিবেচনা করেই কার্যকর উদ্যোগ নেয়া বাঞ্ছনীয়। এছাড়া প্রভাবশালীর ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত, রাজনৈতিক দখলদারিত্বের উচ্ছেদও সরকারকেই করতে হবে। শিশুদের পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি জাতি গঠনের জন্য জরুরি, এটা মাথায় রেখে বিদ্যালয়গুলোর বেদখল হওয়া সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে হবে।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×