ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাঠদান

দেশজুড়ে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি প্রাইমারি স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। সেখানে শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই শিশুদের স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা।

অন্যদিকে শিক্ষকদেরও নিজেদের এবং শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ভবিষ্যৎ কাণ্ডারিদের পড়ানো হচ্ছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় মাত্র এক সপ্তাহ আগে বরগুনার তালতলী উপজেলায় ক্লাস চলাকালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা থেকে। শিশুরা যেহেতু জাতির ভবিষ্যৎ এবং তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাই স্কুলে পড়তে গিয়ে যেন কোনো শিশু হতাহতের শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি।

জানা যায়, দেশজুড়ে যে ৯ হাজার ৬৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে, তার বেশিরভাগ ভবনই নির্মাণ করা হয়েছে ২০০০ সালের পর। উদ্বেগের বিষয়, যেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে শত বছরের টেকসই গ্যারান্টি নিশ্চিত করা হয়, সেখানে স্কুলের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ ভবন মাত্র ১৮-১৯ বছরের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। বলাবাহুল্য, এসব স্কুল ভবন তৈরির সময় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাত্র দেড় যুগ পার না হতেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবন। সরকারের উচিত যে স্কুল ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ে ছাত্রী মারা গেছে, তার ঠিকাদার ও তত্ত্বাবধায়কদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া, যাতে ভবিষ্যতে ঠিকাদাররা সতর্ক হয়। এছাড়া যেসব স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, সেগুলোর ঠিকাদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তো ক্লাস চলছেই, অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টি হলে ধসে পড়ার ভয়ে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হচ্ছে। এমনকি সেরা স্কুলের ভবনও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ভোলায়। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা বলছেন, তারা পড়ার জন্য সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন, লাশ হওয়ার জন্য নয়। তাদের সঙ্গে একমত হয়ে আমরা বলতে চাই, যে কোনো মূল্যে স্কুল ও আশপাশের এলাকা ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ করতে হবে। বিভিন্ন সময় খবরে দেখা গেছে, স্কুল ও ব্রিজসহ নানা সরকারি স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেয়া হচ্ছে! দুর্ভাগ্যের সঙ্গে বলতে হয়- অসাধু ঠিকাদার ও তাদের যারা কাজ দিয়েছে সেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই। অন্তত দেশের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগুলোর ঝুঁকি দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে অবিলম্বে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×