পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ

বিমানকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হোক

  সম্পাদকীয় ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ

মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিমানের খোদ এমডি ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর পাইলট নিয়োগে মোট ১৩ ধরনের অনিয়ম হয়েছে।

এর মধ্যে অন্যতম হল এমডির ভাতিজাকে সুযোগ করে দিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তাতে সংশোধনী এনে শিক্ষাগত যোগ্যতা হ্রাস করা। যোগ্যতা শিথিল করার ফলে প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে বাতিল হওয়া ৩০ জনের আবেদন বৈধ হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ১৩ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা মনে করি, এটি শুধু স্বজনপ্রীতিই নয়, বড় ধরনের দুর্নীতি।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এই নিয়োগে এমডি ছাড়াও পরিচালনা পর্ষদের বেশ কয়েকজন সদস্যের প্রভাব খাটানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিমানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ অনিয়মে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সেই সঙ্গে বাতিল করা উচিত এসব নিয়োগও।

বস্তুত বিমানে দুর্নীতি শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই, এ সংস্থার প্রতিটি শাখার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। সম্প্রতি সংস্থাটির ৮ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করেছে দুদক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব খাতে সীমাহীন দুর্নীতি হচ্ছে। বিমানের অসাধু কর্মকর্তা এবং বোর্ডের অসৎ পরিচালকরা এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বিমানের সব শাখার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ধারণা করা যায় এটি তারই অংশ। আমরা আশা করব, সরকারের এ নীতি অব্যাহত থাকবে। শুধু বিমান নয়, সরকারি প্রতিটি সংস্থা ও দফতরে অনিয়ম, দুর্নীতি, জনহয়রানি রোধে নেয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ।

যথেচ্ছ দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ লোকসান দিতে হচ্ছে। সেবার মানও হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। সেবার মান বৃদ্ধির কোনো প্রয়াসও নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে পারতপক্ষে কেউ বিমানের উড়োজাহাজে চড়তে চান না এখন। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকতে হলে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার বিকল্প নেই।

এদিক থেকে বিমানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অদক্ষতা, অযোগ্যতা আর দুর্নীতি এ সংস্থাটির পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিমানের পিছিয়ে পড়ার এটাই অন্যতম কারণ।

অতীতে জনবল কমিয়ে আনা এবং বিদেশিদের সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়াসহ বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই দাবি উঠেছে বিমানকে গতিশীল করতে একটি পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের।

এ লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য। বিমানকে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত। এসব বিষয় খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে, উন্নতি ঘটানো হবে এর ভাবমূর্তির, এটাই কাম্য।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে দুর্নীতি

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×