পাউবো ও তিতাসের দুর্নীতি

জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় আনা হোক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। তাই সবার প্রত্যাশা, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নজর দেয়া হবে আগে।

ইতিমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। এটি আশাব্যঞ্জক। এভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দিকেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার যুগান্তরে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন।

প্রথমটির বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে যুগান্তরের অনুসন্ধানে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে দুর্নীতির ২২টি উৎস চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি পাউবোর টাস্কফোর্স দল কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদী পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির আলামত পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেখানে সিসি ব্লকের মান হওয়ার কথা ৯ এমপিএ ক্ষমতাসম্পন্ন, সেখানে বুয়েটের ল্যাবে স্যাম্পল পরীক্ষায় দেখা গেছে তার ক্ষমতা মাত্র ২.৩ এমপিএ।

বস্তুত পাউবোর অধিকাংশ প্রকল্পের চিত্র প্রায় এরকমই। প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তা নানা কৌশলে এভাবে দুর্নীতিতে নিয়োজিত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, টাস্কফোর্সের যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতি ধরিয়ে দিচ্ছেন, তাদের বদলি করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা মনে করি, সরকারের উচিত এদিকে জরুরি দৃষ্টি দেয়া। অন্যদিকে সরকারি সেবা সংস্থা তিতাসের যেসব খাতে দুর্নীতি চিহ্নিত করেছে দুদক সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- গ্যাস সংযোগে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, অবৈধ সংযোগ, ভুয়া বিল, অনুমোদনের অতিরিক্ত লোড সংযোগ, বাণিজ্যিক গ্রাহককে শিল্পশ্রেণীর গ্রাহক হিসেবে সংযোগ দেয়া, গ্যাস বিক্রি বেশি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা ইত্যাদি। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশ করেছে দুদক। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- মিটার টেম্পারিং রোধ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের অপচয় বন্ধ করতে ডিস্ট্রিবিউশন ও গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রে প্রি-পেইড মিটার চালু করা; অবৈধ সংযোগ থাকার তথ্যের ভিত্তিতে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা; পরিদর্শনে অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেলে ওই এলাকার তিতাসের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রত্যেক অবৈধ গ্রাহকের কাছ থেকে উচ্চ হারে জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা করা; তিতাসের যেসব কর্মচারীর দীর্ঘদিন শিল্প এলাকায় পোস্টিং আছে, তাদের বদলির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। আমরা মনে করি, দুদকের এসব প্রস্তাব আমলে নেয়া হলে এ খাতে শুধু দুর্নীতিই কমবে না, গ্রাহকরাও রেহাই পাবেন দুর্ভোগ ও হয়রানি থেকে।

আমাদের বিশ্বাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে দুদক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এককভাবে দুদকের পক্ষে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা কঠিন, কিছুটা প্রতিরোধ করা যাবে হয়তো। বস্তুত বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজে পরিণত করতে হলে সর্বদিকবিস্তৃত পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার অর্থ হল দুর্নীতি যে হচ্ছে, তা স্বীকার করে নেয়া। অর্থাৎ বিভিন্ন সরকারি খাতে দুর্নীতির অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়েছে সরকার। এখন প্রকৃত অর্থে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে, এটা নিশ্চিত। দুর্নীতি প্রতিরোধ করা গেলে দেশে উন্নয়ন বাড়বে নিঃসন্দেহে। দেশবাসীর জীবনমানের উন্নতি হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসব আমরা।