জনপ্রতিনিধির সততা ও নাগরিক আস্থা

  সাদিয়া কারিমুন ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

পৃথিবীর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে সুশাসন নিশ্চিতকরণের প্রাথমিক ও প্রধান ব্যবস্থা নির্বাচন। এতে যেমন জনগণের মতামত প্রাধান্য পায়, তেমনি একজন জনপ্রতিনিধি সুযোগ পায় জনগণকে সেবা করার। এ সময়ই বোঝা যায় একজন জনপ্রতিনিধি সুশাসন নিশ্চিত করতে কতটুকু বদ্ধপরিকর।

একজন জনপ্রতিনিধির সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে অবশ্যই সক্ষমতা থাকতে হবে। তবে সক্ষমতাই শেষ কথা নয়, সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে অবশ্যই থাকতে হবে তার সততা আর সদিচ্ছা।

যেমন যখন একজন জনপ্রতিনিধির সদিচ্ছা থাকবে কাজ করার, তখনই কেবল সততা প্রতীয়মান হতে পারে। সেই সঙ্গে যখন জনপ্রতিনিধির সততা প্রাধান্য পাবে তখন সদিচ্ছা আপনাআপনি চলে আসবে।

সততা আর সদিচ্ছার অভাব আমাদের দেশে সক্ষমতা অর্জনে এবং তা কাজে লাগাতে বাধা দিচ্ছে। সুষ্ঠু ও সুবিচারমূলক সেবাই নাগরিকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম। কারণ নাগরিক তার প্রতিনিধিকে কাজ ও সেবা নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়া দেখে বিচার করেন।

কৌটিল্য ও কনফুসিয়াসের মতো বড় বড় দার্শনিক জনপ্রতিনিধির যোগ্যতা, সততা আর নৈতিকতাকে রাষ্ট্রের সেবা করার অন্যতম উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দেশে নানা ধরনের আয়োজন হচ্ছে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে। পাশাপাশি চলছে রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাবানদের দখলদারিত্ব।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ওপর বিশ্লেষণ আর তদন্তের দায়িত্ব পড়ছে। যদি তার সদিচ্ছা হয় তবেই নাগরিকরা সঠিকভাবে তার সেবা পাবেন। তাছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সেবাপ্রাপ্তির বিষয়ে অনেক নাগরিক অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যা মাঠপর্যায়ে নাগরিক মতামতের ওপর বিভিন্ন জরিপের ফলাফল দেখলে বোঝা যায়।

সেবাপ্রার্থীরা বুঝে বা না বুঝে জনপ্রতিনিধি আর প্রশাসনকে দোষারোপ করেন। সম্প্রতি একটি দৈনিকের সম্পাদকীয় পাতায় স্থানীয় সরকার ও মাঠ প্রশাসন সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, সরকারি এমন অনেক কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান একই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে, যা সময়ক্ষেপণ করাসহ জনগণকে সুষ্ঠু সেবাদানে ব্যর্থ হচ্ছে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে একজন জনপ্রতিনিধির সততা, সদিচ্ছা আর সক্ষমতা অবশ্যই প্রয়োজন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ আর বাস্তবায়নে রাজনীতি আর প্রশাসনের যৌথ অবদান রয়েছে। ২০০৬ সালের একটি গবেষণা সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে ৮০ শতাংশের ওপর ক্ষমতা নিহিত থাকে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ওপর এবং বাকিটা প্রশাসনের ওপর।

তাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে নাগরিকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। অংশগ্রহণমূলক সেবাদান প্রক্রিয়া এবং শৃঙ্খলা রক্ষার্থে যে জনপ্রতিনিধি বদ্ধপরিকর, তিনিই পারেন জনগণের আস্থা অর্জন করতে এবং এটাই একজন সৎ জনপ্রতিনিধির প্রধান কাজ।

যে জনপ্রতিনিধি নাগরিকদের সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জোর দেন সচ্ছতা আর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে, সেই সঙ্গে তরুণ ভাবনা আর অভিনব পদ্ধতিতে যিনি বিশ্বাসী, সেই জনপ্রতিনিধিই দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কাঙ্ক্ষিত।

সাদিয়া কারিমুন : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×