শিশুর কাঁধে ভারি ব্যাগ

আদালতের নির্দেশনার কি কোনোই মূল্য নেই?

  যুগান্তর ডেস্ক    ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুর কাঁধে ভারি ব্যাগ
শিশুর কাঁধে ভারি ব্যাগ। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর কাঁধে চেপে বসা বইয়ের ভারি ব্যাগ কিছুতেই হালকা হচ্ছে না। আদালতের রায় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কোনো কাজে আসছে না। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, দেশে আইনের শাসন বলতে আদৌ কি কিছু আছে? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনারই বা আছে কি কোনো কার্যকারিতা?

অবাক কাণ্ডই বটে, প্রথম শ্রেণীতে সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের দেয়া হয় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের ওপর তিনটি বই; অথচ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এই তিনটির অতিরিক্ত আরও ১০টি পর্যন্ত বই অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থার এসব বাহারি বইয়ের দামও অত্যন্ত চড়া।

স্কুলগুলো ছাত্রছাত্রীদের এসব বই কিনতে বাধ্যও করছে। শুধু প্রথম শ্রেণী নয়, পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের যেসব অতিরিক্ত বই পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে, শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ রুদ্ধ করা ছাড়া সেগুলোর আর কোনো কার্যকারিতা নেই।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোয় শিশুদের ভাষা ও সংখ্যাতত্ত্বের অতিরিক্ত কিছু শেখানো হয় না; অথচ এখানে শিশুদের পণ্ডিত বানানোর চেষ্টা চলছে। শিশুর শিক্ষাদানের এই পদ্ধতি কোনোভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। আসলে শিশুদের অতিরিক্ত বইয়ের ফাঁদে ফেলে অনৈতিক আর্থিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সন্দেহাতীতভাবেই চরম অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কেন শিশুমনের ওপর এই বাড়তি চাপ? কেন শিশুর শিক্ষা নিয়ে এই অর্বাচীনতা? সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় অবশ্য শিশুদের এতটা চাপ সহ্য করতে হয় না। বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতেই যত অনাচার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব যুগান্তরকে বলেছেন, কিন্ডারগার্টেনগুলো মন্ত্রণালয়ের আদেশ মানছে না। তিনি আরও বলেছেন, তার যোগদানের পর অতিরিক্ত বইসংক্রান্ত আইন তৈরির ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা তার চোখে পড়েনি! প্রথম কথা হচ্ছে, কিন্ডারগার্টেনগুলো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ যে মানছে না, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের কি করার কিছুই নেই? দ্বিতীয় কথা, অতিরিক্ত বইসংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা সম্পর্কে তিনি জানেন না কেন?

পিঁপড়া তার শরীরের চেয়ে ভারি বস্তু মুখে নিয়ে চলাচল করে। বাংলাদেশের শিশুরাও শরীরের চেয়ে ভারি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে হেঁটে চলে স্কুলের পানে। অথচ তাদের স্বাভাবিক বিকাশের সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক নিয়ম রয়েছে আর তা হল তাদের চাপমুক্ত রেখে আনন্দঘন পরিবেশ গড়ে তোলা।

আমরা মনে করি, আদালত অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে শিশুদের কাঁধ থেকে অতিরিক্ত বোঝা নামানোর লক্ষ্যে আইন তৈরির কথা বলেছেন। আদালতের সেই নির্দেশনা মানতে হবে। আর তা না হলে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অচিরেই এ ধরনের আইন তৈরি করে শিশুদের চাপমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×