মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষকরা কেন পেশা ছাড়ছেন

  মো. মাহফিজুর রহমান মামুন ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষকরা কেন পেশা ছাড়ছেন
মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষকরা কেন পেশা ছাড়ছেন। ফাইল ছবি

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। সারা বিশ্বে অন্য যে কোনো পেশার চেয়ে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা বেশি। সেটা বেতন ও পদমর্যাদা যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন। একটি দেশ কতটা এগিয়ে যাবে সেটা সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের প্রতি গুরুত্ব অনুধাবন করে বলে দেয়া যায়।

শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। এ কারণে অধিকাংশ দেশেই প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশ্বে যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে উন্নত সেই ফিনল্যান্ডে একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন-পদমর্যাদা কিছু ক্ষেত্রে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের থেকেও বেশি। সে দেশে সেরা ১০০ মেধাবীকে শিক্ষকতা পেশার জন্য নির্বাচিত করা হলে তাদের মধ্যে সেরা ২০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয় প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে।

এভাবে পর্যায়ক্রমে হাইস্কুল, কলেজ ও সর্বশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলংকায় প্রাথমিক শিক্ষকরা প্রথম শ্রেণীর মর্যাদাপ্রাপ্ত। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ব্যাংকার ও অন্যান্য পেশার থেকে প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশার বেতন-পদমর্যাদা অনেক বেশি। তাই সে দেশে মেধাবীরা প্রাথমিক শিক্ষক হতে আগ্রহী হয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয় সবচেয়ে কম। এ দেশে প্রাথমিক শিক্ষকরা বেতন-পদমর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অবহেলিত। তাই নিু আর্থসামাজিক মর্যাদার কারণে মেধাবীরা প্রাথমিক শিক্ষক হতে চায় না। যেসব মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আসে তারাও কিছুদিন পর এ পেশা ছেড়ে দেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করে, যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি অশনিসংকেত।

দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যেতে হলে প্রাথমিকে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সত্যিকার অর্থে মর্যাদা (উচ্চ বেতন-পদমর্যাদা) না দিয়ে শুধু ‘শিক্ষকের মর্যাদা সবার উপরে’ এ কথা বলে মেধাবীদের এই পেশায় আকৃষ্ট করানো অথবা তাদেরকে এ পেশায় ধরে রাখা যাবে না। মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে অথবা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই তাদের সম্মানজনক বেতন-পদমর্যাদা দিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের উন্নয়নে অনেক কিছু করছে; কিন্তু এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে, যা নিরসন করা আশু প্রয়োজন। ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দিয়েছেন। দেশের অন্যসব পেশায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে কর্মরত সবাই দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, শুধু প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

৩৪, ৩৫ ও ৩৬তম বিসিএস থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য সবাই সরাসরি দশম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের ১১তম গ্রেডে নিয়োগ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই দেশে একই নিয়োগে এই বৈষম্যের কারণে দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-ক্যাডার অনেক প্রধান শিক্ষক সম্প্রতি শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে চলে গেছেন। অথচ মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মেধাবীদের এ পেশায় ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তাই অবিলম্বে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদাসহ প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড কার্যকর করা উচিত। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাণ বলে অভিহিত সহকারী শিক্ষকরা আরও অবহেলিত। তারা শিক্ষক হয়েও এখনও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত, যা শিক্ষক জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক। বঙ্গবন্ধু যেখানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখেননি, সেখানে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ।

তাছাড়া অন্য পেশাজীবীদের থেকে কম ছুটি ভোগ করলেও প্রাথমিক শিক্ষকদের ভ্যাকেশনাল কর্মচারী হিসেবে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করা হচ্ছে। শিক্ষকতা পেশায় তাদের ধরে রাখতে হলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।

মাহফিজুর রহমান মামুন : সহকারী শিক্ষক ও ফ্রিল্যান্সার

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×