লিজে লাভ, সরকারিতে লোকসান!

রেলের কালো বিড়াল মারতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লিজ,

শুনতে আশ্চর্যজনক মনে হলেও বাস্তবতা বলছে, সরকারি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত লোকাল ট্রেনগুলো লোকসান বা নামমাত্র লাভ দিলেও লিজের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পর সেগুলোর লাভ বেড়ে গেছে একশ’ থেকে দেড়শ’ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত। কেবল এক দুটি রুটে নয়, লিজ দেয়া সব রুটের ট্রেনের অবস্থাই একইরকম।

জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন রুটে রেলের ২১টি ট্রেন বেসরকারি খাতে চলাচল করছে। এগুলো দৈনিক ৭৬টি ট্রিপ দেয়। লোকাল এসব ট্রেন বছরে সরকারকে লিজ চুক্তি হিসেবে ৬০ কোটি টাকা পরিশোধ করছে। অথচ সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলার সময় এগুলোর গড় আয় ছিল মাত্র ২৪ কোটি টাকা। সরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পর লোকাল ট্রেনগুলোর আয় বেড়েছে তিনগুণের বেশি।

এ থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হল, সরকারি ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অসাধু কর্মকর্তারা ‘সরকার কা মাল দরিয়া মে ঢাল’ প্রবাদকে কাজে লাগিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের পকেট ভরতেই ব্যস্ত থাকেন। এ অবস্থায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় কেন লোকসান হয় তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিয়ে লাভজনক করা অথবা আরও বেশি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

বস্তুত কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন অনেক প্রকল্প নেয়ার পরও রেলের লোকসান বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে সরকারি সংস্থাটি লোকসান গুনেছে ১৬শ’ কোটি টাকার, চলতি অর্থবছরে সেটি ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেলের লোকসান ও দুর্নীতি-অনিয়ম জায়েজ করার ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা খোঁড়া যুক্তি দিয়ে থাকেন যে, লাভ-লোকসান মূল বিবেচ্য নয়, সেবার মান বাড়ানোই মূল কথা। পৃথিবীর সব দেশেই সেবা খাতের মূল টার্গেট ব্যবসা ও লাভ করা। রেলের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। আমরা মনে করি, খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করিয়ে লোকসানের মূল কারণকে আড়াল করার সুযোগ নেই।

এ অবস্থা চলতে থাকলে যাত্রীসেবা ও সরকারের আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া এবং বর্তমানে লিজে থাকাগুলোর মেয়াদ বাড়ানোই হবে সঠিক পদক্ষেপ। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি আন্তঃনগর ট্রেন কর্ণফুলী আছে বেসরকারি খাতে। এর অভিজ্ঞতা আমলে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×