শ্রীলংকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা

কেন এই ঘৃণা-বিদ্বেষ?

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীলংকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা

শ্রীলংকায় রোববার যে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটাকে গত এক দশকের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা বলা যায়। এ হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় তিনশ’ এবং আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচশ’ মানুষ। শুধু হতাহতের বিবেচনায় নয়, ব্যাপকতার দিক থেকেও হামলাটি ভয়াবহ।

রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশটির বড় তিনটি হোটেলে চালানো হয় এ হামলা। পরে হামলা হয় আরও দুটি স্থানে। রোববার ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। তাই এ হামলা ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বস্তুত তদন্তেই তা জানা যাবে। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত কারা এ হামলা চালিয়েছে তা এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি শ্রীলংকা সরকার। তবে বোমা হামলার ঘটনায় ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আমরা বলব, সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার আগেই অনুমাননির্ভর কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী না করে শ্রীলংকা সরকার দায়িত্বশীলতা ও সুবিবেচনার প্রমাণ দিয়েছে।

হামলার প্রকৃতি দেখে মনে হয় শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, বিদেশি পর্যটকরাও ছিল হামলাকারীদের টার্গেট। উল্লেখ্য, নিহতদের ৩৬ জন বিদেশি, যাদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আট বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছে। আহত হয়েছেন শেখ ফজলুল করিম সেলিমের জামাতা। তারা একটি রেস্তোরাঁয় খাচ্ছিলেন। সেখানেও একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এদিকে গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পর রোববার রাতে শ্রীলংকার পুত্তালুম জেলায় একটি মসজিদে বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা উদ্বেগজনক।

সন্ত্রাসী হামলা যে উদ্দেশ্যেই চালানো হোক না কেন, তা নিন্দনীয়। শ্রীলংকায় রোববারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিদ্বেষ শুধু বিদ্বেষেরই জন্ম দেয় এবং তাতে রক্তপাত আরও বাড়ে। শ্রীলংকায় বহু বছর গৃহযুদ্ধ চলেছে। প্রায় এক দশক আগে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর দেশটিতে আপাতদৃষ্টিতে শান্তি ফিরে এলেও ভেতরে ভেতরে যে সহিংসতার বীজ ছিল সুপ্তাবস্থায়, রোববারের ঘটনা তারই প্রমাণ। জাতিগত সহিংসতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শ্রীলংকা কি নতুন করে আরেক সংকটে নিপতিত হল? এ প্রশ্ন এখন অনেকেরই।

ভিন্ন ধর্ম বা জাতির প্রতি কিছু মানুষের ঘৃণা-বিদ্বেষের কারণে অনেক দেশেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। গত মার্চেই নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এ ক্ষেত্রে হতাহতরা হামলাকারীর তীব্র জাতি বিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন। শ্রীলংকার ঘটনাটিও কি এ ধরনের কিছু? যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে তা চিন্তার বিষয় বৈকি। সারা বিশ্বেই জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়ছে। এর কারণ যথাযথভাবে চিহ্নিত করা দরকার। মানবজাতির শান্তির স্বার্থে বিশ্বকে এ থেকে মুক্তি পেতে হবেই। শ্রীলংকায় রোববারের সন্ত্রাসী হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা।

ঘটনাপ্রবাহ : শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ হামলা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×