সড়কে আর কত মৃত্যু?

  সোহেল দ্বিরেফ ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা।
সড়ক দুর্ঘটনা। ছবি-যুগান্তর

ছোটবেলায় পুতুল খেলার সময় যখন বর-বউয়ের হাত বা পা ভেঙে যেত, তখন মনের মধ্যে দুঃখের কোনো শেষ থাকত না। অথচ আজ দেশের সড়কে প্রতিদিন জীবন্ত মানুষের দেহ পিষ্ট হচ্ছে অর্থাৎ মা-বাবা তার সন্তানকে হারাচ্ছে, ভাই তার বোনকে হারাচ্ছে, শিক্ষার্থী তাদের সহপাঠীকে হারাচ্ছে; তবুও কারও যেন দুঃখ নেই, কষ্ট নেই!

এভাবে আর কত জীবন সড়কের বুকে বিলিয়ে দিলে আমাদের অন্ধ চোখে আলো ফিরে আসবে? এভাবে আর কত ভাই-বোনের রক্ত বৃষ্টির পানির মতো রাস্তার ধুলো ভেজালে আমাদের বিবেক জেগে উঠবে? আজ রাস্তায় বের হলেই যেন ঘুরেফিরে ভয়াল সেই স্মৃতিগুলো প্রতিচ্ছবি হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যায়।

‘জন্মেলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে?’ কথাটা সত্য। কিন্তু আমরা এমন যত্রতত্র অবাঞ্ছিত মৃত্যু চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুতে যেন আমাদের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি খণ্ডচিত্র ফুটে উঠেছে। কেউ কেউ বলেন, দুর্ঘটনার জন্য পথচারীরাই বেশি দায়ী।

আবরারের মৃত্যু তাহলে এভাবে হল কেন? সে তো জেব্রাক্রসিং দিয়েই রাস্তা পার হচ্ছিল। সুপ্রভাত নামে একটি বাস অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গেলে সেই বাসের ধাক্কা খেয়ে সেখানেই পড়ে যায়। অবশেষে দুই বাসের মাঝখানে পড়ে একটি সম্ভাবনাময় জীবনের ইতি ঘটে। বাস চালকদের নোংরা প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে তাকে জীবন দিতে হয়েছে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি ও সংস্থা নানা সুপারিশ করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকেও ২১টি সুপারিশ করা হয়েছিল, যার অধিকাংশই আলোর মুখ দেখেনি। তাহলে বিভিন্ন মহল থেকে ঢাকঢোল পিটিয়ে এত কমিটি, উপকমিটি করে কী লাভ হল?

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এ সমস্যা নিরসনের জন্য অনেক পদক্ষেপ নেয়া হলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা তা উপেক্ষা করেছে। তারা নিজেদের সর্বেসর্বা ভাবার সাহস কোথায় পাচ্ছে তা সবাই জানে। অথচ সেখানে হাত দেয়া হচ্ছে না! এই বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থাপনা আর চলতে পারে না। এখনই এদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। সবাই সেদিকেই তাকিয়ে আছে। বেপরোয়া চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারও একার পক্ষে এই কঠিন কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। চলার পথে সবাই ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, জেব্রাক্রসিং, রোড সিগনাল মেনে চললে অনেক অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সামাজিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালালে তা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তাছাড়া পরিবহন শ্রমিকদের দায়িত্বশীল কাজের জন্যে পুরস্কারের ব্যবস্থাও নেয়া যেতে পারে। সার্বিকভাবে আমাদের দেশ এগিয়ে গেলেও এ ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।

সোহেল দ্বিরেফ : প্রাবন্ধিক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×