শিশু ও নারী নির্যাতন

প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনও প্রয়োজন

  সম্পাদকীয় ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু ও নারী নির্যাতন
প্রতীকী ছবি

দেশে নারী ও শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নতুন না হলেও সম্প্রতি তা উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, দেশে কাক্সিক্ষত মাত্রায় শিক্ষার বিস্তার হলে এর ভয়াবহতা কমবে। কিন্তু বাস্তবে লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশে শিক্ষার হার বাড়লেও শ্লীলতাহানিসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যা কমেনি।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭ শিক্ষার্থীসহ ১১ জন নারী ও শিশু শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে। একই দিনের যুগান্তরের অপর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ৪৭ কন্যাশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

এসব ঘটনায় শিশু ও অভিভাবকদের আতঙ্ক যেমন বাড়ছে, তেমনি এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনে। বর্তমানে এ সামাজিক ব্যাধিটি যেহেতু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, সেহেতু এর হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য করণীয় নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সমাজে নারীর শ্লীলতাহানির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এক সময় নানারকম যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতো। কিন্তু যখন লক্ষ করা গেল, কোনো বৃদ্ধ প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে, তখন এ ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যখন কোনো শিক্ষক তার ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন, তখন এ ঘটনা বিশ্লেষণের কোনো ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব ঘটনায় কোনো কোনো ব্যক্তির বিকৃত মনমানসিকতার বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সমস্যাটি যতই ভয়াবহ আকার ধারণ করুক না কেন, এর সমাধানসূত্র খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা জানি, শিক্ষা মানুষের রুচির পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মানুষকে উন্নত মূল্যবোধের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের এই জানার বিষয়টি যে ভুল নয়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের তা প্রমাণ করতে হবে। যে অভিভাবক ও শিক্ষক ব্যক্তিগত জীবনে উন্নত মূল্যবোধের চর্চায় মনোযোগী, এমন অভিভাবক ও শিক্ষকের ছায়ায় যারা বড় হয় তারা কখনও অপ্রীতিকর কোনো কিছু করতে পারে না।

কোনো নারী ও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হলে অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি উন্নত মূল্যবোধের চর্চায় গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, আমাদের জীবনবোধে এর প্রতিফলন না ঘটলে উল্লিখিত সমস্যাসহ অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। নৈতিকতার চর্চা ও সামাজিক আন্দোলন নারী ও শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×