আইন আছে, প্রয়োগ নেই

  নাজমুল হোসেন ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইন আছে, প্রয়োগ নেই
প্রতীকী ছবি

ধূমপান হচ্ছে তামাকজাতীয় দ্রব্য বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সঙ্গে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণের প্রক্রিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সর্বজনীনভাবে এটি স্বীকৃত যে, ধূমপান যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানা রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৪ কোটি ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক সেবন করে। তারা পরোক্ষভাবে ক্ষতি করে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষের। ধূমপান না করেও কেউ যেন পরোক্ষভাবে এর শিকার না হয়, এ লক্ষ্যে প্রকাশ্য স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনে সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়সহ ২৪ ধরনের স্থানকে পাবলিক প্লেস ঘোষণা দিয়ে সেসব জায়গায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- খোলা জায়গা, পার্ক, মাঠ, বাস টার্মিনাল, স্টেশন, লঞ্চঘাট, রেস্তোরাঁ, খাওয়ার জায়গা ইত্যাদি- অর্থাৎ যেসব স্থানে মানুষ জড়ো হয়। তাছাড়া আইনে শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে রক্ষায় কঠোর বিধান থাকলেও তা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ধূমপানের পথ ধরে নেশায় জড়িয়েছে। একজন ধূমপায়ীর সাধারণত একাধিক ধূমপায়ী বন্ধু থাকে। আর এভাবেই একজনের প্রভাবে অন্য বন্ধুরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।

রাজধানী ঢাকাসহ সব শহর, বাজার, স্কুল-কলেজের আশপাশের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে চলে ধূমপান। ধূমপায়ীরা তোয়াক্কা করে না পাশ দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষদের। সিগারেট পানে কখনই কোনো ব্যক্তিত্বের পরিচয় প্রকাশ পায় না। পাবলিক প্লেসে বা জনসম্মুখে বেশ বেপরোয়া ধূমপায়ীরা।

পরোক্ষ ধূমপানের সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। গর্ভের সন্তানও এই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। পরম নির্ভরতায় শিশুটি বাবার পাশে বসে খেলছে। আর ধূমপায়ী বাবাই কিনা শিশুটির সবচেয়ে ক্ষতির কারণ হচ্ছে না বুঝেই। শিশুরা এতে হার্ট অ্যাটাক, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের ধোঁয়ায় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। তাই শুধু পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহন নয়, বাসায়ও ধূমপান পরিহার করা উচিত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও ধূমপানবিরোধী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মারফত জানা যায়, ধূমপান আইন মেনে না চলার প্রবণতা, জরিমানার পরিমাণ কম হওয়া এবং তামাক উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপট-এসব কারণে আইন প্রয়োগে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।

২০১৩ সালের তামাক আইন অনুযায়ী, ওইসব স্থানে ধূমপায়ীকে অনধিক ৩০০ টাকা জরিমানা করতে হবে। তবে তা আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার কারণেই আইনের প্রতি অনেকেই শ্রদ্ধাশীল হচ্ছেন না। অন্যদিকে পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও শ্রীলংকায় প্রকাশ্যে ধূমপান করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। আমাদের দেশেও প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান তৈরি ও এর সঠিক প্রয়োগ করতে হবে।

যেখানে-সেখানে, ফুটপাতে অবাধে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি রোধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সব তামাকের ওপর উচ্চহারে কর বাড়াতে হবে। কারণ সব তামাকই মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। ভারত থেকে সীমান্তপথে নেশাজাতীয় এক ধরনের পাতার বিড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেটাও বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নাজমুল হোসেন : প্রকৌশলী ও লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×