উচ্চশিক্ষা ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটুক

  রাসেল আহমেদ ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

গুণীজনেরা বলেন, জীবনে সম্পদ অর্জনের চেয়ে জ্ঞান অর্জন শ্রেয়। কারণ, অর্থ-সম্পদকে মানুষ পাহারা দিয়ে রাখে; অন্যদিকে জ্ঞান এমনই এক সম্পদ যা পাহারা দিতে হয় না।

বরং জ্ঞানই মানুষকে পাহারা দিয়ে রাখে। এই যে এত চাকচিক্যময় পৃথিবী, এত আলোকিত; তা কি শুধু চোখের আলোয়? না, শুধু চোখের আলোয় নয়, জ্ঞানের আলোয় আজকের এ পৃথিবী এত আলোকিত হয়েছে। পৃথিবীর এত উন্নতি সম্ভব হয়েছে উচ্চশিক্ষার কারণে। উচ্চশিক্ষা অর্জনের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৫০টির মতো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যা মোট চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ মেটাতে সক্ষম।

দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এদেশের মানুষকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানটিও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায়। পিতা-মাতার আর্থিক সংকট থাকলেও সন্তানের উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তাদের অনড় অবস্থান। অনেকে জমিজমা বিক্রি করে, খেয়ে না খেয়ে সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গনে এখন শিক্ষার্থীদের ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে নানা পরিবর্তন। তবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সাফল্য এখনও অধরা রয়ে গেছে। অন্যদিকে যে হারে শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করছে, সে হারে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়নি দেশে।

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে এবারের (২০১৯) এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন পরীক্ষার্থী। এই বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী পাস করার পর কোথায় ভর্তি হবে, যেখানে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মাত্র ৪১ (সূত্র : ইউজিসি)? মেডিকেল-ইঞ্জিনিয়ারিং সব মিলিয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন ৭০-৮০ হাজারের মতো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে উচ্চশিক্ষা নিতে পারবে আরও এক লাখ শিক্ষার্থী। এ তো গেল স্বাভাবিক খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যম। দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৩টি (সূত্র : ইউজিসি)। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব মিলিয়ে আরও এক লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। তবুও মোট পাসকৃত প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নেয়া অনিশ্চিত থেকে যাবে।

মাত্র ৪১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে ১৬ কোটি মানুষের দেশে উচ্চশিক্ষার জোগান দেবে? উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই সংকট থেকে আশু উত্তরণের কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে এর সুযোগে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছামতো খরচ বাড়িয়ে চলেছে। দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়তে গড়ে ১০-১৫ লাখ টাকা খরচ হয়। অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান সন্তোষজনক নয়। এছাড়া এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ক্লাস ও পরীক্ষা ছাড়া সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ আছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ কতটা আছে তাও প্রশ্নবিদ্ধ।

এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, খুন, অপহরণ, আন্দোলন, ধর্মঘট, সেশনজট, পরীক্ষা বর্জনসহ নানা সমস্যা লেগেই থাকে। তারপরও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আগ্রহ সব শিক্ষার্থীর। কিন্তু আসন সীমিত হওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত একটি আসন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার এই অনিশ্চয়তা কাটাতে পারে বিদেশ। উদাহরণস্বরূপ, মালদ্বীপে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। পুরোপুরি বিদেশে উচ্চশিক্ষার ওপর ভর করে আজ মালদ্বীপ দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাধিক শিক্ষার হারের দেশ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও সহনীয় খরচে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেয়ার মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

রাসেল আহমেদ : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×