ব্যাংক ঋণের সুদ হার: সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নে আর বিলম্ব কাম্য নয়
jugantor
ব্যাংক ঋণের সুদ হার: সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নে আর বিলম্ব কাম্য নয়

   

২৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক ঋণের সুদ হার: সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নে আর বিলম্ব কাম্য নয়

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদ হার অস্বাভাবিক বেশি- এ উপলব্ধি স্বয়ং অর্থমন্ত্রীর। গত বৃহস্পতিবার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এত বেশি সুদ হার নেই; এই অধিক সুদ দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারে না।

আশার কথা, এ সত্যটি তিনি কেবল উপলব্ধিই করেননি, এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলেছেন। সলভেন্সি অ্যাক্ট ও অ্যাসেস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর জন্য ইতিপূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সেসময় ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নির্দেশনা থাকার পরও বিস্ময়করভাবে তা কার্যকর করা যায়নি।

এখন অর্থমন্ত্রী যেহেতু বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন, সেহেতু আমরা আশা করব- অচিরেই ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সরকারি উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। চড়া সুদের কারণে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন অনেকটা দুরূহ বিধায় অনেক উদ্যোক্তা পুঁজি বিনিয়োগ না করে হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এর ফলে দেশে শিল্পের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঋণের সুদ হার নিয়ে ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা অনাকাক্সিক্ষত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি আমরা।

ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৬ শতাংশ ও সার্ভিস চার্জ নমনীয় পর্যায়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও আমাদের দেশে ঠিক তার বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের আমদানি-রফতানি, উৎপাদন ও জোগান তথা ভোক্তা পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার সার্বিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে, অন্যদিকে সক্ষম শিল্পগুলোও রুগ্ণ হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটিয়ে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে তার উপলব্ধি অচিরেই বাস্তবে রূপ দেয়ার পদক্ষেপ নেবেন, এ প্রত্যাশা আমাদের।

ব্যাংক ঋণের সুদ হার: সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নে আর বিলম্ব কাম্য নয়

  
২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ব্যাংক ঋণের সুদ হার: সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নে আর বিলম্ব কাম্য নয়
ফাইল ছবি

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদ হার অস্বাভাবিক বেশি- এ উপলব্ধি স্বয়ং অর্থমন্ত্রীর। গত বৃহস্পতিবার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এত বেশি সুদ হার নেই; এই অধিক সুদ দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারে না।

আশার কথা, এ সত্যটি তিনি কেবল উপলব্ধিই করেননি, এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলেছেন। সলভেন্সি অ্যাক্ট ও অ্যাসেস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর জন্য ইতিপূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সেসময় ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নির্দেশনা থাকার পরও বিস্ময়করভাবে তা কার্যকর করা যায়নি।

এখন অর্থমন্ত্রী যেহেতু বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন, সেহেতু আমরা আশা করব- অচিরেই ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সরকারি উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। চড়া সুদের কারণে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন অনেকটা দুরূহ বিধায় অনেক উদ্যোক্তা পুঁজি বিনিয়োগ না করে হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এর ফলে দেশে শিল্পের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঋণের সুদ হার নিয়ে ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা অনাকাক্সিক্ষত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি আমরা।

ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৬ শতাংশ ও সার্ভিস চার্জ নমনীয় পর্যায়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও আমাদের দেশে ঠিক তার বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের আমদানি-রফতানি, উৎপাদন ও জোগান তথা ভোক্তা পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার সার্বিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে, অন্যদিকে সক্ষম শিল্পগুলোও রুগ্ণ হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটিয়ে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে তার উপলব্ধি অচিরেই বাস্তবে রূপ দেয়ার পদক্ষেপ নেবেন, এ প্রত্যাশা আমাদের।