কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের প্রতিবেদন

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখন এ স্থিতিশীলতা যেন টেকসই ও ক্রমবর্ধমান হয়, তার ওপর জোর দিতে হবে। আশার কথা, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল এরই মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার জন্য চারটি নীতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলো হল- অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভারসাম্যমূলক মুদ্রানীতি এবং সহনীয় রাজস্বনীতি। আমরা মনে করি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসব নীতি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে, যদি সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়।

জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপলক্ষে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের তৈরি একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্লিখিত চার নীতি প্রয়োগ করলে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতির যে আকার এবং পর্যায়ক্রমে আমরা নিজেদের যেখানে নিয়ে যেতে চাচ্ছি, তাতে কেবল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার কৌশল খুঁজলেই হবে না, তা যেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা যায় সে পথ খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সর্বোপরি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কারণ টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য জিডিপিতে বেসরকারি ভোগের চাহিদার চেয়ে বিনিয়োগ বেশি হতে হয়। একইসঙ্গে সরকারি বিনিয়োগের চেয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির হারও বেশি হতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগের চেয়ে বেসরকারি ভোগব্যয় বৃদ্ধির হার বেশি। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি যেহেতু ভালো একটি ভিতের ওপর দাঁড়ানো, সেহেতু নিজস্ব শক্তির বলে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। তবে এজন্য দরকার সরকারের ইতিবাচক ও সহায়তানির্ভর নীতি। তাহলে অর্থনীতি দ্রুত এগোবে। বাজেটে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও সহজ রাজস্বনীতি ঘোষণা করে সে মোতাবেক অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। গত অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয়ের চাহিদা বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ; কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে ১৪ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগের চেয়ে ভোগের চাহিদা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে।

সরকার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে এটি ইতিবাচক। কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় একটি বৃত্তে আটকে ছিল। ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশে আটক ছিল। এরপর কয়েক বছর সেটা ৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পা রাখছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে অভ্যন্তরীণ বাজার-চাহিদা ইত্যাদিতে জোর দিতে হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে এটি সহজে অর্জন করা সম্ভব। এ জন্য সরকারি চার নীতি অনুসরণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ জোরদার এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। কারণ সরকারি কর্মসংস্থান সীমিত। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা গেলে ক্রয়ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি টেকসই প্রবৃদ্ধিসহ গোটা অর্থনীতিতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×