ওয়াসার পানি কতটা সুপেয়?

  সাঈদ চৌধুরী ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াসার পানি কতটা সুপেয়?
ফাইল ছবি

পাহাড় কাটা, পাহাড়ের পাথর উত্তোলন, শঙ্খ নদী দখল ও দূষণ নিয়ে কথা বলছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। তিনি বলছিলেন, আপনারা বলেন পাথর উত্তোলন হচ্ছে; কিন্তু আমার প্রশ্ন এ পাথর যখন ট্রাকে করে যায় তখন প্রথমে ইউনিয়নের সামনে দিয়ে, পরে পৌরসভা, জেলা শহর, আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীসহ সবার চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তখন কেউ দেখে না পাথর বের হয়ে যাচ্ছে? তিনি একপর্যায়ে সরাসরি বলেন, পাথর অবৈধভাবে উত্তোলিত হলেই সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জবাব দিতে হবে। পুনর্বাসন প্রকল্পের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রবণতা রয়েছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

নদী পরিব্রাজক দল ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই মিলে আমাকে বলুন কোন কোন জায়গায় পানি উন্নয়নে, পরিবেশ উন্নয়নে এবং পাহাড়ের উন্নয়নে নতুন নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করা যায়, কী কী ব্যবস্থা নেয়া যায় বা কী ধরনের কাজে বেশি সফলতা আসবে, আমি তা-ই করব।

প্রয়োজনে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সবার কাছে যাব; তবুও আমি আমার পাহাড়কে সুন্দর, সবুজ ও নির্মল দেখতে চাই। শনিবার বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের যৌথ আয়োজনে পার্বত্য নদী সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গতানুগতিক রাজনীতিকদের বিপরীত তার এসব কথা ও আচরণ আমাকেসহ অনুষ্ঠানের সবাইকে মুগ্ধ করে।

পক্ষান্তরে ঢাকা ওয়াসার এমডির কথাটির কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারলাম না। তিনি বলেছেন, ওয়াসার পানি সম্পূর্ণ সুপেয়। আবার তিনিই বলেছেন, তিন প্রকারের পানি তিনি নিজেই পান করেন (সূত্র : প্রথম আলো, ২১.০৪.২০১৯)। পানি ফুটানোর কারণে কোটি কোটি টাকার গ্যাস পুড়ে যায়- টিআইবির এ অভিযোগের বিপরীতে ওয়াসার এমডির এমন কথা আমাদের হতাশায় ডোবায়।

একটি সিস্টেমে অনেক ধরনের সমস্যা থাকতে পারে। তার মধ্যে ঢাকা ওয়াসার লাইন, সুয়ারেজের লাইন, ড্রেন লাইন- সব একসঙ্গে হওয়ায় কোথাও কোথাও লিকেজ হয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতেই পারে। আর এর বিপরীতে শতভাগ সুপেয় পানির নিশ্চয়তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

সিস্টেমের সমস্যা থাকতে পারে, এটা স্বীকার করে নিয়ে তা সমাধান করাই যেখানে প্রধান কাজ, সেখানে দোষ ঢেকে রাখার মানে হচ্ছে সেখানে আর নতুন কোনো কাজ না হওয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া!

বিষয়গুলো এখন নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে। একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থায় কোথায় কোথায় ত্রুটি আছে সেগুলো বের করার জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন, প্রয়োজন অন্যান্য দেশের ব্যবস্থাগুলো নিয়ে গবেষণা, প্রয়োজন পানির ব্যবহার সীমিত করা, বৃষ্টির পানি বৃহৎ আকারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা। ওয়াসাকে সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

ওয়াসার লাইনের লিকেজগুলো শনাক্ত করার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তা খুঁড়ে দেখতে হয়। এতে রাস্তার যেমন ক্ষতি হয় তেমনি লাইন মেরামতেও অনেক সময় লেগে যায়। প্রতিটি রাস্তার পাশে বিদ্যুৎ, পানির জন্য আলাদা ড্রেনের মতো করে কৃত্রিম স্ল্যাব ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করা হলে সহজেই লিকেজ শনাক্ত করে তা মেরামত করা সম্ভব হবে। এতে জনদুর্ভোগও কমবে। এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদদের আরও ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করি।

সাঈদ চৌধুরী : রসায়নবিদ; সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শ্রীপুর, গাজীপুর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×