মে দিবস মানে

শ্রমিকের হালখাতা

  মুঈদ রহমান ০১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রমিকের হালখাতা

আঠারো শতকের মধ্যভাগে শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে একটি শ্রমিকশ্রেণী গড়ে ওঠে। কিন্তু ক্রীতদাসদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য ছিল এই- শ্রমিকদের কাজ করা-না-করার স্বাধীনতা ছিল।

এটুকু ছাড়া মালিকরা ক্রীতদাসদের সঙ্গে যে রকম আচরণ করত, শ্রমিকের বেলাতেও তাই। দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। সংগঠিত শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ১৮৮৬ সালের মে মাসে সারা আমেরিকার শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দেয়। কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো- প্রায় ৩ লাখ শ্রমিকের সমাবেশ ঘটে।

পুলিশের গুলিতে শ্রমিকদের প্রাণ গেল, ফাঁসিতে ঝোলানো হল শ্রমিক নেতা স্পাইস, ফিসার, পার্সনস, এঞ্জেলসহ ৮ জনকে। ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই এঙ্গেলসের নেতৃত্বে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানানো হয়। শেষতক পুঁজিবাদী বিশ্ব ১৮৯০ সাল থেকে দিনটিকে এ স্বীকৃতিদানে বাধ্য হয়।

আজ আমাদের মধ্যে অনেকেই মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনকে ‘কেবল’ শ্রম ৮ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখার ইতিহাস বলে বিবৃত করতে চান। এই সংকুচিত মানসিকতা ১৮৯০ সালের ১ মে নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ারের সমাবেশের ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়। সেদিন ঘোষিত হয়েছিল, ‘৮ ঘণ্টা কাজের দাবি আমরা চালিয়ে যাব।

কিন্তু কখনও ভুলব না আমাদের শেষ লক্ষ্য হল মজুরি ব্যবস্থার (পুঁজিবাদ) উচ্ছেদ সাধন।’ সেক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, আমরাও শ্রমিকদের যথাযথ অধিকারের কথা বোঝাতে-জানাতে সক্ষম হইনি। শ্রমিকরা যে রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ, তাদেরও যে দুঃখ-বেদনা আছে, তাদের জীবনেও যে বিনোদনের প্রয়োজন আছে, এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত না করে তাদের বোধবুদ্ধিহীন মেশিন বলে বিবেচনা করে আসছি।

আজকের বাস্তবতা হল, ট্রেড ইউনিয়ন মানেই শ্রমিকশ্রেণীর স্বার্থরক্ষা নয়। অনেকে নিজেদের স্বার্থে দালালশ্রেণীকে ইউনিয়নের নেতা বানিয়ে রাখে। প্রয়োজনে ‘গুণ্ডা-সন্ত্রাসী’ ভাড়া করে শ্রমিকদের দমিয়ে রাখার জন্য। তারপরও শ্রমিকরা এই নামকাওয়াস্তে ট্রেড ইউনিয়ন করা থেকেও বঞ্চিত। খোদ আইনের কারণেই ইউনিয়ন করা যায় না।

শ্রম আইনের ১৭৮(৩) ধারায় বলা আছে, ‘কোনো দরখাস্ত পাওয়ার পর, উহার একটি কপি (ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের নামের তালিকাসহ) সংশ্লিষ্ট মালিককে তাহার অবগতির জন্য অবিলম্বে প্রেরণ করিবেন।’ ব্যস, কোন মালিক অবহিত হওয়ার পর বাড়িতে বসে থাকবে। হয় হুমকিধমকি, নয়তো ছাঁটাই!

আমরা আজকের মে দিবসে কোনো প্রথাগত বাণী শুনতে চাই না, শ্রমিকের ৮ ঘণ্টা কর্মরীতির ইতিহাসও শুনতে চাই না। শুনতে চাই শ্রমিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার নিশ্চয়তার প্রতিজ্ঞার কথা; মানবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার কথা। শ্রমিকশ্রেণীর জয় হোক। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

মুঈদ রহমান : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×