রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৩ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

রমজান এলেই নানা অজুহাতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর যে রীতি রয়েছে দেশে, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

রমজানের এখনও কয়েক দিন বাকি, অথচ ইতিমধ্যেই একের পর এক বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে একশ্রেণীর অসাধুচক্র।

আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমলেও এ দেশের বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বর্তমানে ডলারের উচ্চমূল্য, আমদানিকৃত পণ্য খালাসে বিলম্ব, সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি কারণে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে।

তাদের এই দাবির কোনো সারবত্তা নেই। যেমন, গত এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ১৩ পয়সা; কিন্তু ভোগ্যপণ্যের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটাও অতিরঞ্জিত।

আসলে ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতা। ভোক্তার সুবিধা-অসুবিধার কথা তারা কখনও ভাবে না, সুযোগ পেলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকে। রমজানকে তারা সময়ের সুযোগ ধরে নিয়েছে। অন্য কোনো দেশে ধর্মীয় আচার বা উৎসবকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম বাড়ানো হয় না। বাংলাদেশই এর ব্যতিক্রম। মুখে ধর্মের বুলি আওড়িয়ে অধর্ম করতে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর মোটেও অসুবিধা হয় না।

এটা সুবিদিত যে, কয়েকটি মাত্র ব্যবসায়ী গ্রুপ ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমলেও তারা দাম কমায় না। বস্তুত দেশে ভোগ্যপণ্যের প্রতিযোগিতার বাজার সৃষ্টি করা যায়নি। ভোক্তারা কম দামে পণ্য পাবে তখনই, যখন বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমিশনের তৎপরতা যথেষ্ট নয়। এই কমিশনের তৎপরতা বাড়ানো উচিত বলে মনে করি আমরা।

রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারকে নড়েচড়ে বসতে হবে। জোরদার করতে হবে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রমজানের আগে-পরে নিত্যপণ্যের দাম যাতে সহনীয় থাকে, সেজন্য বাজারে অধিদফতরের একাধিক টিম কাজ করছে।

তারা আরও বলছেন, মোকাম এবং পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে গত শনিবার থেকে অভিযান পরিচালনা শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, নামকাওয়াস্তে অভিযান পরিচালনার ফলাফল ভালো হয় না। অভিযানের সময় কঠোরতা অবলম্বন না করে শৈথিল্য প্রদর্শন করলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। দাম বাড়ানোর পেছনে কোনো অযৌক্তিক কারণ থাকলে দোষীদের চিহ্নিত করে ভোক্তা আইনে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে।

জানা গেছে, বাজারে রমজানের পণ্যগুলোর কোনো ঘাটতি নেই। শুধু খেজুর ও চিনির আমদানি এবার কম হয়েছে; ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, ছোলা ও মসুর ডাল চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট মজুদ রয়েছে।

খেজুর ও চিনির আমদানি কম হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা এ দুই পণ্যের দাম এত বাড়িয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

সবচেয়ে বড় কথা, রমজানে যেসব পণ্য বাজারে থাকবে, সেগুলোর এলসি হয়েছে অনেক আগেই। তাই দাম বাড়ানোর কোনো কারণই থাকতে পারে না।

সরকারের উচিত হবে, আসন্ন রমজানে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের সম্মুখীন না হন, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×