ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

মোকাবেলার প্রস্তুতি নিন

প্রকাশ : ০৩ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ আজ শুক্রবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বলা হচ্ছে, ৪৩ বছর পর সবচেয়ে শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়। ফনি আজ বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তী সময় উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশ অতিক্রম করার সময় এর গতি হবে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ফনির আঘাত বেশ মারাত্মক হতে পারে।

এর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসও হতে পারে। ডুবে যেতে পারে দেশের নিুাঞ্চল। তবে ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করছে ফনি কখন আঘাত হানবে তার ওপর। আঘাত যদি জোয়ারের সময় হয়, তাহলে জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বেশি হবে।

ঘূর্ণিঝড় ফনির কারণে সাগর উত্তাল থাকায় গতকাল সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের জরুরি বার্তায় পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ছয় নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

তারা যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে, সে জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

জানা যায়, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বুধবার থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষত ঘূর্ণিঝড় আমাদের উপকূলে বারবার আঘাত হেনেছে।

সাম্প্রতিককালে বড় দুটি ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। এ দুটি ঘূর্ণিঘড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা আজও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা।

এ ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া এবং বিপুলসংখ্যক হাঁস-মুরগি ও গাবাদিপশুর মৃত্যু আর ফসলি জমি ও মাছের ঘের ধ্বংস হওয়ায় উপকূলের মানুষের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া।

তবে এটিও সত্য, বারবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানায় এ দুর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতাও সঞ্চিত হয়েছে উপকূলবর্তী মানুষের। তাই আমরা আশা করতে পারি ঘূর্ণিঝড় ফনির আঘাত মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

এখনও যারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেননি, স্থানীয় প্রশাসনের উচিত তাদের দ্রুত ঝুঁকিহীন জায়গায় সরিয়ে নেয়া। বস্তুত যথাযথ প্রস্তুতিই পারে যে কোনো দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে।