মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্ববোধ সমাজে ভারসাম্য আনে

  শহিদুল ইসলাম ০৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্ববোধ সমাজে ভারসাম্য আনে
মালিক-শ্রমিক ভ্রাতৃত্ববোধ সমাজে ভারসাম্য আনে। ফাইল ছবি

কোনো কিছু সৃজন করতে মালিকের পাশাপাশি শ্রমিকের অবদানও অনস্বীকার্য। একটি ইমারত নির্মাণ করতে যেমন ইট, পাথর, বালি, সিমেন্ট দরকার হয়, তেমনি ইট, পাথর ও সিমেন্টকে প্রক্রিয়াকরণ ও গাঁথার জন্য প্রয়োজন হয় জনবলের।

একা মালিক যেমন ইমারত তৈরি করতে পারে না, তেমনি একা শ্রমিকও পারে না তৈরি করতে কোনোকিছু। তাই সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য মালিক-শ্রমিকের সমাঝোতা প্রয়োজন।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম দুঃখের সঙ্গে বসবাস করে শ্রমিক শ্রেণীর মর্যাদা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয়েছিলেন। শ্রমিকরা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও অধিকারবঞ্চিত হলে তা বিবেকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশে দেশে আন্দোলন অব্যাহত আছে। অফিস, আদালত, কলকারখানা, মাঠঘাট, উৎপাদন, পরিবহন সর্বত্র শ্রমজীবী মানুষের পদচারণা।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে আরও সোচ্চার হতে হবে। শ্রমিককে শোষণ ও নির্যাতন থেকে মুক্তি দিতে হবে। ইসলাম ধর্মেও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার দেয়ার ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে- রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মজুরি নির্ধারণ ছাড়া কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করা অনুচিত’ (সহিহ বুখারি)। ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করে দাও’ (ইবনে মাজাহ)।

ধাতু গলাতে শেখা এবং চাকা তৈরি মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক মহাবিস্ময়কর ঘটনা। এই চাকা তৈরির উপাদান সরবরাহ করে প্রকৃতি, উৎপাদনের কল সরবরাহ করে মালিক তথা পুঁজিপতি আর চাকা তৈরিতে সহায়তা করে শ্রমিক শ্রেণী। এই সভ্যতার চাকা চালনার জন্য শ্রমিক শ্রেণীর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ-বৈষম্য অসহনশীলতার জন্ম দেয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের নৈতিক চেতনা তথা বিবেকের দ্বারা চালিত হতে হবে।

আমরা একুশ শতকের এই হাইটেকের গ্লোবাল ভিলেজে যখন বাস করছি, তখন অসহায় শ্রমিক শ্রেণীর ভিড়ও বাড়ছে, যা আমাদের চেতনা ও বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। আমাদের মনে রাখা দরকার, মালিক ও শ্রমিক ভাই ভাই। এই ভ্রাতৃত্ববোধ সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার সত্য, জ্ঞান এবং জগৎ ও জীবন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা। আমরা এমন একটা সমাজ চাই যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য ও হানাহানি। শ্রমিক তার অধিকার ও সুবিধা বুঝে পাবে এবং সমাজ একটি ভারসাম্য অবস্থায় ফিরে যাবে, এই আমাদের প্রত্যাশা।

শহিদুল ইসলাম : প্রাবন্ধিক; প্রভাষক, দর্শন বিভাগ, ইস্পাহানি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×