এসএসসির ফল

পাসের হারের পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়াতে হবে

  সম্পাদকীয় ০৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: যুগান্তর
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: যুগান্তর

গতকাল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় এসএসসি, মাদ্রাসা ও কারিগরিতে পাসের হার যথাক্রমে ৮২ দশমিক ৮০, ৮৩ দশমিক শূন্য ৩ ও ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

গত বছরের চেয়ে এবারের গড় পাসের হার বেশি। প্রতি বছর এসএসসি ও সমমানের এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর লক্ষ করা যায়, শিক্ষায় আগ্রহী ব্যক্তিরা সাধারণভাবে আগের বছরের ফলাফলের সঙ্গে চলতি বছরের ফলাফল তুলনা করে এ বিষয়ে মন্তব্য করে থাকেন। এ ধরনের বিশ্লেষণের চেয়ে জরুরি হল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে তা বিশ্লেষণ করা। আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান না বাড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়বে।

লক্ষ করা যাচ্ছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক সবসময় ব্যস্ত থাকেন কী করে তাদের সন্তান জিপিএ-৫ পাবে। অনেক অভিভাবকের ধারণা, তার সন্তানের জিপিএ-৫ না পাওয়ার অর্থই হল ওই শিক্ষার্থী জীবনে ভালো কিছু করতে পারবে না। এমন ধারণা যে একেবারেই ভিত্তিহীন তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে। সম্প্রতি লক্ষ করা গেছে, এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। এ থেকে এটাই স্পষ্ট হয়, এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান সেভাবে বাড়ছে না। কাজেই শিক্ষার গুণগত মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

এবার সারা দেশে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কী করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান বাড়ানো যায়, তার পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ওই অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণ পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদানে উল্লেখযোগ্যসংখক শিক্ষকের অক্ষমতার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। অব্যাহত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব শিক্ষকের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। ভালো ফলের জন্য এখনও অনেক শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করে। তা না করে নিজের চেষ্টা অব্যাহত রেখে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। শিক্ষক-অভিভাবক সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত না থাকলে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো কঠিন হতে পারে।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সবার প্রতি রইল আমাদের অভিনন্দন। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তারা হতাশ না হয়ে আগামীতে যাতে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারে, সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×