পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন সুরাহা হওয়া জরুরি

প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন। ফাইল ছবি

বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ ৯ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা গত মঙ্গলবার কর্মবিরতির পাশাপাশি ঢাকা, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শ্রমিকরা রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে দীর্ঘক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং এতে দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ।

যশোর ও খুলনা অঞ্চলের বিক্ষুব্ধ পাটকল শ্রমিকরা রেলপথ অবরোধের পাশাপাশি খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে রেল ও বাসযাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন।

আমরা মনে করি, জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি হতে পারে না। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, বিশেষত বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবির সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি, তবে দাবি-দাওয়া পূরণের এ আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে।

পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট তথা অবরোধ কর্মসূচির একটা প্রেক্ষাপট রয়েছে। বাংলাদেশ পাটকল সংস্থা (বিজেএমসি) বলছে, পাটকলগুলো লোকসানি হওয়ায় তারা শ্রমিক-কর্মচারীদের ঠিকমতো বেতন-ভাতা দিতে পারছে না।

অন্যদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, মূলত পাটকল ব্যবস্থাপক ও পরিচালকদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই দায় তারা নিতে যাবেন কেন। পাটকল শ্রমিকদের এ বক্তব্য ন্যায়সঙ্গত।

কারণ, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের দায় কোনোভাবেই তাদের ওপর চাপানো চলে না। কথা হচ্ছে, বেসরকারি পাটকলগুলো যদি লাভজনক হতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোকে কেন প্রতি বছর লোকসান গুনতে হবে?

শ্রমিকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে যখন পাটের দাম কম থাকে, বিজেএমসি তখন পাট না কিনে পরে বেশি দামে কেনে। সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়ার যে অভিযোগ করেছে বিজেএমসি, তারও কোনো সারবত্তা নেই।

সময়মতো কেন বরাদ্দ পাওয়া যায় না, এ প্রশ্নের উত্তর তাদেরই দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি পাটকলগুলোর বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব পণ্য বিক্রির দায়িত্ব নিশ্চয়ই পাঠকলগুলোর কর্তৃপক্ষেরই, শ্রমিকদের নয়।

প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বর্তমান শোচনীয় অবস্থা একদিনে হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই বিজেএমসির কর্মকর্তারা এসব ব্যাপারে ছিলেন উদাসীন। তারা বরং ব্যক্তিগত লাভালাভের ব্যাপারেই বেশি উৎসাহী ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা তাদের এ ব্যর্থতার কারণেই শ্রমিক-কর্মচারীরা আজ অসহায় অবস্থায় আন্দোলনে নেমেছেন। আমাদের কথা, শ্রমিক-কর্মচারীরা তো কোনো দোষ করেননি। তারা শ্রম দিয়েছেন, সেই শ্রমের মজুরি তাদের কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে হবে।

সরকারি পাটকলগুলোর লোকসানি অবস্থা যদি চলতেই থাকে, তাহলে সেগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলেই হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর নাম লোকসানি খাতায় ঢুকিয়ে বছরের পর বছর ধরে হাত-পা গুটিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি ভিত্তিতে এর একটি সুরাহা হওয়া দরকার।