উপেক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ!

শিল্পঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা ১০ মাসেও কার্যকর না হওয়া পরিতাপের বিষয়।

উল্লেখ্য, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছর ১ জুলাই থেকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা ছিল।

যারা সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামায়নি, তারা শুধু বিএবির সিদ্ধান্তই উপেক্ষা করেনি, অমান্য করেছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও। বিষয়টি উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং অর্থনীতির গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে গত বছর ১৪ মে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর পর সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার ঘোষণা দেন ব্যাংক মালিকরা। এজন্য তারা সরকারের কাছ থেকে কয়েক দফা সুবিধাও আদায় করে নেন। শুধু তাই নয়, বাজেটে ব্যাংক মালিকদের বেশি মুনাফার জন্য এ খাতের কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া স্বল্প সুদে সরকারি আমানতের নিশ্চয়তাও পেয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। কিন্তু নানা সুবিধা নিয়েও কথা রাখেননি ব্যাংক মালিকরা। সিদ্ধান্তটির বাস্তবায়ন এড়াতে নানা কৌশল ও শুভঙ্করের ফাঁকির আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।

সাতটি বেসরকারি ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে শিল্পঋণ দেয়ার দাবি করলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী বলছেন- তারা কেউ সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব সুবিধা মূলত ব্যাংকের পরিচালকরাই পাচ্ছেন। যেসব ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিটে শিল্পঋণ দেয়ার দাবি করছে, তারা হয়তো তাদের পরিচালকদেরই এ সুবিধা দিচ্ছে, প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের নয়।

ফলে যে উদ্দেশ্যে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তা ভেস্তে যেতে বসেছে। ঋণের উচ্চ সুদহার দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতি এবং ডলারের উচ্চমূল্যসহ নানা কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি অনুধাবন করেন। গত ৩১ মার্চ জাতীয় শিল্পমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ব্যাংক ঋণ।

এ সময় ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, সন্দেহ নেই।

বিনিয়োগ বাড়লে এবং নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ। অর্থাৎ এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রশ্ন জড়িত। তাই ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা জরুরি।

ঋণের সুদহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ব্যাংকগুলোর অনিয়ম। যথাযথ নিয়ম না মেনে ঋণ দেয়ার কারণে ব্যাংকগুলোকে সংকটে পড়তে হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা গেলে ব্যাংকের তারল্য সংকট কমে আসবে।

এর ফলে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা সহজ হবে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এ জায়গাটিতে দৃষ্টি দেয়া, ব্যাংকগুলোর গড়িমসি অব্যাহত থাকলে তাদেরকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে ঋণ দিতে বাধ্য করা। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।