হুমকির মুখে দেশীয় কাগজ শিল্প

আমদানিকৃত কাগজের ওপর শুল্ক বাড়াতে হবে

  সম্পাদকীয় ১০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হুমকির মুখে দেশীয় কাগজ শিল্প

দেশীয় কাগজ শিল্প সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থায় থাকলেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে দেশে অবাধে ঢুকছে আমদানিকৃত কাগজ।

প্রায় বিনা শুল্কে আনা এসব কাগজ খোলাবাজারে দেদার বিক্রি হওয়ায় দেশীয় কাগজ শিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কাগজ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। সম্প্রতি পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এক লিখিত প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ ও কাগজ আমদানিতে শুল্ক না বাড়ানো হলে দেশীয় কাগজ শিল্প অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

আমাদের কথাও তাই, কাগজ শিল্পে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কেন এই কাগজ আমদানি? দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে বর্তমানে ১০৬টি পেপার মিল রয়েছে।

এসবের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন আর দেশে কাগজের চাহিদার পরিমাণ ৬ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক বেশি।

দেশে উৎপন্ন আন্তর্জাতিক মানের কাগজ বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। ওদিকে পেপার মিলগুলোয় প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছে ১৫ লাখ মানুষ, পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের সংখ্যা ৬০ লাখ।

এ শিল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্বও পাচ্ছে এ শিল্প থেকে। এটাই যখন বাস্তবতা, তখন দেশীয় কাগজ শিল্পকে প্রায় বিনা শুল্কে আমদানিকৃত বিদেশি কাগজের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেয়ার তাৎপর্য কী?

বিশ্বের অন্যান্য দেশ তাদের স্থানীয় শিল্পের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় আমদানিকে নিরুৎসাহিত করে থাকে, অথচ এ দেশে করা হচ্ছে ঠিক উল্টোটা।

বাজার ঘুরলেই দেখা যায়- আমদানিকৃত কোটেড পেপার, গ্রাফিক পেপার, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট কার্ড, মিডিয়া পেপার, সেলফ অ্যাডহেসিভ পেপারে রাজধানী সয়লাব। যাদের সহায়তায় এসব কাগজ বিক্রি হচ্ছে তাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে অব্যাহত রাখা হচ্ছে এ বাণিজ্য। কাগজ আমদানির বেশিরভাগ বন্ড আবার ভুয়া। অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় কাগজ আমদানিকারকরা এত শক্তিশালী যে, কয়েকদিন আগে পুরান ঢাকায় কাগজের মার্কেটে অভিযান চালাতে গেলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের তাদের হাতে নাজেহাল হতে হয়।

দেশীয় কাগজ শিল্পকে বাঁচাতে হলে আমদানিকৃত কাগজের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। দেশীয় কাগজের সঙ্গে যুক্ত যারা, তারা বলছেন- সব ধরনের কাগজ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ১০ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। একইসঙ্গে যেসব কাগজে ২৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা আছে, সেগুলোতে আরও উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে। সরকারের উচিত হবে দেশীয় কাগজ শিল্প বাঁচানোর লক্ষ্যে বিষয়টিতে আশু নজর দেয়া।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×