ভেজাল প্রতিরোধ: আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ কাম্য

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ভেজাল প্রতিরোধ: আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ কাম্য

বাজার থেকে ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর বিএসটিআই সম্প্রতি ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আশঙ্কার বিষয় হল, এসব পণ্যের মধ্যে দেশের অনেক নামি-দামি ব্র্যান্ডের তেল, ঘি, সেমাই, নুডলস, মসলা, পানিসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যে ভেজালের বিষয়টি নিয়ে আদালতও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য জব্দ এবং বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা- এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

উদ্বেগজনক হল, দেশে প্রায় প্রতিটি খাদ্যসামগ্রী নিয়েই চলছে ভেজালের মহোৎসব। বস্তুত বাজারে মাছ-মাংস, দুধ-ডিম ও ফলমূল থেকে শুরু করে এমন কোনো পণ্য নেই, যার মধ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ভেজাল মেশানো হচ্ছে না। বাজার থেকে সংগৃহীত কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে।

রাজধানীসহ সারা দেশে তথাকথিত মিনারেল ওয়াটারের নামে যেসব বোতলজাত পানি বিক্রি হচ্ছে, হাতেগোনা দু’একটি বাদে এর অধিকাংশই মানসম্পন্ন নয়। এসব কোম্পানির পানিতে ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

উদ্বেগজনক হল, মানহীন খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক রাসায়নিক পদার্থ। সেমাই ও নুডলস তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ময়দা, পাম অয়েল, অ্যারারুট, সাবান তৈরির রাসায়নিক উপাদান এবং এক ধরনের রাসায়নিক পাউডার। ঘি তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যধিক পরিমাণ পাম অয়েল, অতি নিম্নমানের ডালডা, বেকারি ঘি ও রাসায়নিক রঙ।

কিছুদিন আগে দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা মরিচের গুঁড়ার ২৭টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছিল সরকারের জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। এছাড়া হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন গুঁড়া মসলায় ইট ও কাঠের গুঁড়া, তুষ ইত্যাদি নানারকম ভেজাল মেশানো হচ্ছে।

বারডেম পরিচালিত এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল- খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক বিষের কারণে দেশে প্রতি বছর অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যান্সার, ২ লাখ ২০ হাজার ডায়াবেটিস, ২ লাখ কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও প্রায় পৌনে ৩ লাখ মানুষ ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এছাড়াও পেটের পীড়া, লিভার, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের লাখ লাখ মানুষ। চাল, মাছ, সবজি, মসলা, দুধ, দই, মিষ্টি, বেকারি পণ্যসহ প্রায় অধিকাংশ খাদ্যপণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের হলেও ক্রেতাদের কোনো সংগঠন না থাকায় অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারছে না।

ভেজালের দায়ে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জরিমানার সম্মুখীন হচ্ছে, জরিমানা প্রদান শেষে পুনরায় তারা একই কর্মে লিপ্ত হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে খাদ্যে ভেজালের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও দেশে এখন পর্যন্ত কাউকেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি।

আমরা আশা করব, আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে সরকার খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।