ঢাকা কবে বাসযোগ্য হবে?

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জান্নাতুন নাঈম

ঢাকার যানজট। ফাইল ছবি

ঢাকা যেন এক মরণফাঁদ। এ নগরীতে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। আর এমন এক নগরীতে বসবাস করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা করছি। অথচ যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্কের পরই বসবাসের অযোগ্য আমাদের এই ঢাকা শহর।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার চকবাজার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে দগ্ধ হয়ে ৭১ জন মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। সর্বশেষ ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে শ্রীলংকার এক নাগরিকসহ ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের দেশে যখন এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে তখন আমরা তার প্রতিকারের চেষ্টা করি; কিন্তু আগেই আমরা তা প্রতিরোধের চেষ্টা করি না।

আমরা জানি সব দিক থেকে এই ঢাকা শহর একটি মৃত্যু নগরীতে পরিণত হয়েছে। তবুও আমরা প্রতিনিয়ত এই স্থবির শহরটিতে মরার মতো বেঁচে আছি। ঢাকাকে ভাবা হয় দুনিয়ার সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন মেগাসিটি। যানজটের নগরী যেন ঢাকার পরিচিতির অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। অথচ অন্তত দেড় কোটি মানুষ এখন ঢাকা শহরে বসবাস করছে।

আমরা যদি একটু চোখ খুলে তাকাই, তাহলে দেখব এখানে অপরিকল্পিতভাবে গায়ে গা লাগিয়ে ভবন তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ঝুলে আছে, যার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দুর্বিষহ যানজট, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট, ধুলাবালি, পয়ঃনিষ্কাশনের জটিলতা, দুর্গন্ধময় ও বিষাক্ত বাতাস, দূষিত পরিবেশ, ঘনবসতি, ভেজাল খাবার, লাগামহীন বাসা ভাড়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ইত্যাদি নানা সমস্যায় আমরা একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। শহরটিতে এ অবস্থা বিরাজ করছে অনেক বছর ধরেই। দিন দিন অবস্থা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।

নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অনেক কিছুই এখানে অনুপস্থিত। এজন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে আমাদের এ শহরকে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর বলে দাবি করা হয়। একটি নগরে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। শুধু ঢাকা শহর নয়, দেশের অন্য শহরগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময় নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসচেতনতার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। সেসব ঘটনায় সতর্ক কিংবা সচেতন হলে হয়তো দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। যখন অসচেতনতা বা অসতর্কতা থেকে শুরু করে নানা কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং এর ফলে অনেক মানুষ চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে, তখন বিষয়টি কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই।

সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার দুর্ঘটনার ঘটনাগুলো আমলে নেয়া এবং দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। বিভিন্ন স্থানে একের পর এক এমন ভয়ানক ঘটনা ঘটছে, যা সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব সহকারে আমলে নিতে হবে। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সচেতনতা।

জান্নাতুন নাঈম : শিক্ষার্থী, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা

[email protected]