পানির জন্য হাহাকার

ওয়াসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক ১২ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াসা

রাজধানীতে বিশুদ্ধ পানি সংকটের বিষয়টি নতুন নয়। বছরের বিভিন্ন সময় এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শনিবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে।

এছাড়া সরবরাহ করা পানিতে রয়েছে ময়লা ও উৎকট দুর্গন্ধ। এদিকে গ্রীষ্মের দাবদাহের কারণে পানির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ অনেকাংশে কমে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় দৈনন্দিন জরুরি কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নগরবাসী প্রচুর অর্থ খরচ করে বোতলজাত পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু সবার পক্ষে এ খাতে বাড়তি খরচ করা সম্ভব নয়। নগরজুড়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চললেও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার করছে না। এ কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।

সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিকে পান উপযোগী করতে পানি ফুটানো বাবদ রাজধানীবাসী বছরে যে পরিমাণ গ্যাস খরচ করে তার অর্থমূল্য ৩৩২ কোটি টাকারও বেশি।

টিআইবির ওই গবেষণাকে ওয়াসার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রত্যাখ্যান করলেও ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি কোনো সচেতন ব্যক্তিই ফুটানো ব্যতীত পান করেন না। ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি ফুটানোর সামর্থ্য যাদের নেই, তারা এ পানি পান করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অসচেতনতার কারণে যারা জীবাণুযুক্ত এ পানি পান করছেন, তাদের বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বহুল আলোচিত।

জানা গেছে, পানি সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগীরা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। নগরজুড়ে বিশুদ্ধ পানির সংকটের সুযোগে ওয়াসার একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারী পানি নিয়ে সেবার পরিবর্তে বাণিজ্য শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ এসব অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এক সময় এসব কর্মচারী আরও বেপরোয়াভাবে পানি বাণিজ্য করতে পারে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যা-ই দাবি করুক না কেন, বাস্তবতা হল কখনও কখনও ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে এত বেশি ময়লা ও দুর্গন্ধ থাকে যে তা পান করা তো দূরের কথা, ধোয়ামোছার কাজেও ব্যবহার করা যায় না। তারপরও মানুষ বাধ্য হয়ে এ ময়লা পানিই ব্যবহার করেন। কখনও কখনও এ ময়লা পানির সংকটই তীব্র আকার ধারণ করে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের উচিত নিজেদের অক্ষমতা দূর করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×