খাদ্যে ভেজাল: হাইকোর্টের নির্দেশ

ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাই কাম্য

  সম্পাদকীয় ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্যে ভেজাল: হাইকোর্টের নির্দেশ

বিএসটিআইয়ের ল্যাব পরীক্ষায় ধরা পড়া ৫২টি নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের এবং এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট, তার দ্রুত বাস্তবায়ন কাম্য।

উল্লেখ্য, বাজার থেকে ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর বিএসটিআই সম্প্রতি ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে, যার মধ্যে ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্বেগের বিষয় হল, এসব খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে দেশের অনেক নামি-দামি ব্র্যান্ডের তেল, ঘি, সেমাই, নুডলস, মসলা, পানিসহ বিভিন্ন পণ্য।

ভোক্তারা এতদিন বাজার থেকে এসব নামি ব্র্যান্ডের পণ্য নিশ্চিন্তে কিনে খেয়েছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, দেশের নামি-দামি ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যই যদি নিম্নমানের ও ভেজালমিশ্রিত হয়, তাহলে ব্র্যান্ডহীন বা অজানা-অচেনা ব্র্যান্ডের পণ্যের কী অবস্থা? এটা নিশ্চিত, বাজারের অসংখ্য খাদ্যপণ্যের মধ্যে মাত্র ৫২টিই নিম্নমানের নয়।

সম্প্রতি বাজার থেকে সংগৃহীত কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। বস্তুত ধারণা করা হয়ে থাকে, বাজারের অধিকাংশ খাদ্যপণ্যই নিম্নমানের বা ভেজালমিশ্রিত অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত। এসব খাবার খেয়ে ভোক্তারা নিজেদের অজান্তেই নানা দুরারোগ্য ও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তাদের অনেকের অকালে মৃত্যু হচ্ছে। তাই খাদ্যে ভেজাল দেয়া একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। এই অপরাধীদের গুরুদণ্ডই কাম্য। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে তা আরও কঠোর করতে হবে। সবচেয়ে বড় কাজ হল আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

আশার কথা, একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে দৃষ্টি দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাইকোর্ট যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রণিধানযোগ্য। আদালত বলেছেন, যদিও এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের, আদালতের দেখার বিষয় না, তারপরও জনস্বার্থ বিবেচনায় আদালত এসব বিষয় এড়িয়ে যেতে পারেন না।

খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রতিটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ দরকার। বাংলাদেশ সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা- মাদকের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে যেন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এজন্য প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণারও অনুরোধ জানিয়েছেন হাইকোর্ট। আমরা আশা করছি, আদালতের এ বক্তব্য আমলে নিয়ে সরকার অবিলম্বে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

আমরা লক্ষ করে থাকি, দেশে রমজান মাসসহ বিভিন্ন সময়ে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে সারা দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।

তাছাড়া এসব অভিযানে ভেজাল পণ্য বিক্রির দায়ে যে সাজা দেয়া হয় তা মোটেই গুরুদণ্ড নয়। ফলে ভেজাল প্রতিরোধে এসব অভিযানের কার্যকারিতা সামান্যই। এ সংক্রান্ত আদালতের বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, শুধু রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযান কাম্য নয়, এটা চলা উচিত সারা বছর।

খাদ্য নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন শুধু কর্মকর্তা হিসেবে কাজ না করেন, তারা যেন দেশপ্রেমিক হিসেবে জনগণের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

বস্তুত আইনের যথার্থ প্রয়োগ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের সচেতনতাই পারে দেশে ভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে। ইতিপূর্বে এক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপেও যেহেতু কাক্সিক্ষত ফল মেলেনি, সেহেতু ভেজালের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণাই কাম্য।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×